Sunday, 6 April 2025

 

যোগেশ্বর কর্মকার ঠাকুরের সাথে সাথে বহু জায়গায় যেতেন আর কীর্তনের সময় খোল বাজাতেন তাতে অন্যরা তাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করত শুধু নয়, ঠাকুরও তাকে এটা সেটা দিতেন। কিন্তু ঠাকুরের প্রতি কোনো গভীর বিশ্বাস তার ছিল না। যেতেন কিছু পাওয়ার লোভে। একবার চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারে ঠাকুর আছেন বিধুভূষণ বোসের বাড়িতে। রাতে অনেক শিষ্যরা বসে আছেন। যোগেশ্বর বাবু সেখানে গিয়ে হাজির। ঠাকুর যেখানে বসেছিলেন সেখানে গিয়ে ঠাকুরের দু-পা জড়িয়ে ধরে এনে নিজের কপালে ঠেকালেন।
ঠাকুর বললেন - আহা ভক্তি দেখাইয়া এত নমস্কার করতাছেন। এদিকে ত মনে মনে আমারে লইয়া অকুল সাগরে ভাইস্যা বেড়াইতেছেন।
অন্যান্য আশ্রিত ও ভক্তরাও একথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। ঠাকুর এসব কী বলছেন! ঠাকুরের মুখের দিকে আবার তিনি তাকালেন। ঠাকুর আবার বললেন- মূর্খরা টাকা বাজাইয়া লয়না। নাইলে ধরা পড়লে পুলিশে যাইব এই ডরে চালাকরা টাকা বাজাইয়া লয়। বলতে বলতেই ঠাকুর হেসে উঠলেন। তারপর বললেন- নেন নেন আর বাজান লাগত না। আর মনের সাথে যুদ্ধ করতে হইব না। ঠাকুরকে প্রনাম করে যোগেশ্বর কর্মকার ফিরে এলেন।
পরমেষ্ঠী গুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
ডঃ প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য
পৃষ্ঠা: ৪৪৪
যত্র জীবস্তত্র শিব:।পাশবদ্ধো ভবেদজীব:,
পাশমুক: সদা শিব:।''
প্রকৃতির বর্ণবিবর্ণে বিমোহিত হইয়া,ভাগ্যানুসারে সত্যপদ ছাড়িয়া,সীমাবদ্ধ ক্ষয়শীল দেহ-গেহ,বিদ্যা-বুদ্ধি,ধনী-মানী,শত্রুমিত্রাদির আবর্ত্তনে পড়িয়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা ভাগ্য-ভোগ করিয়া থাকে,এই ভোগ ত্যাগ না হওয়া পর্য্যন্ত মনের জল্পনা কল্পনা বিমুক্ত হইতে পারে না,দেহের বন্ধনও কাটে না জানিবেন।
''মন: করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈ:।'' অতএব মন হইতেই দেহের ভোগ আয়তন করিয়া শান্তিঅশান্তি আদি দ্বন্দ্ব উপভোগ করিয়া থাকে।মনহইতেই দেহে সুস্থ অসুস্থ ইত্যাদি উপলব্ধি হয়।জীব যখন ঘুমায় তখন মন থাকে না,দেহ গেহাদি কিছুই থাকে না।সেইরুপ প্রাণের জানিবেন।
''প্রাণোহি ভগবানীশ: প্রাণো বিষ্ণু: পিতামহ:।
প্রাণেন ধার্য্যতে লোক: সর্ব্বং প্রাণময়ং জগৎ।।''
ঘুমাইলে মনাদি থাকে না।তখন প্রাণ থাকে,অতএব ভাগ্যশীল দেহের স্মিতিরুপ [?] ভাগ্যফল তিতিক্ষা করিয়া কর্ত্তৃত্ব মুক্তদ্বারা সত্যের অর্থ্যাৎ প্রাণের দাস হউন,সত্যনারায়ণ আপনার মঙ্গল করিবেন।ভাগ্য হইতেই লোকে দেহের শান্তি অশান্তি ভোগ পাইয়া থাকে।এই জন্য দেহই ভোগের আয়তনী জানিবেন ''দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্ব্বস্য ভারত।'' দেহ ভাগ্যবর্ত্তে যখনই দেহ ত্যাগ হইবে তখনই বিদেহীরুপ নিত্যানন্দ লাভ করিতে পারিবেন।
-শ্রী শ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ২য় খন্ড(১৪৪)

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 শ্রী শ্রী রামঠাকুর---'' জগতে সমস্তই নশ্বর ,একমাত্র প্রাণবায়ুই সৎ ,প্রাণবায়ুর সঙ্গ করার নাম সৎসঙ্গ ৷''----- জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏🙏🙏
জয় রাম 🙏🙏🙏
যত ঘন ঘন নাম করিবেন তত‌ই
হৃদয়ে স্থির অবস্থা আসিবে।
ইহাকে শিবশক্তি যোগ বলে।
শ্রী শ্রী রামঠাকুর,,,।
রামময় হোক আমাদের সকলের প্রাণ।
<🌹🌹🌹শুভ রাত্রি 🌹🌹🌹>
 
 
 
যখনই  কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছিঃ
১৯৩৭ কিংবা ১৯৩৮ ইং সনে এক কাজের দায়িত্ব পেয়ে জামালপুর থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে এলেন রামঠাকুরের আশ্রিত শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদার। তাঁকে কাজে যেতে হত জি. পি. ও তে। ডিউটি ছিল বেলা দুটো থেকে রাত দশটা। অফিসে যাওয়া আসার সুবিধার জন্য রসা রোডের কাছে মহিম হালদার স্ট্রিটে বাড়ি ভাড়া করে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করে দিলেন। তাঁর বড় ছেলের নাম শ্রী দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার - কলেজে পড়ে, উঁচু ক্লাসের ছাত্র। কলেজে আসা যাওয়া ছাড়া সে বড় একটা বাড়ির বাইরে থাকে না, বাড়ির সন্ধ্যা আরতি ও কীর্তনে প্রায়ই সে অংশগ্রহন করে।
একদিন মাধববাবু জি.পি.ও থেকে রাত এগারটায় বাড়ি ফিরে শোনেন, দুর্গাপ্রসাদ চাঁদপুরের এক বন্ধুর সাথে বিকেলের দিকে বেড়াতে বেরিয়েছে - এখন ও ফিরেনি, এমন কি আজকের সন্ধ্যা আরতির সময়ও তাকে দেখা যায় নি। বাড়ির সবাই খুবই চিন্তিত। সে কোথায়, কোথায় যেতে পারে, তাঁর খোঁজ করেও কাজের কাজ কিছুই হলো না।
বাধ্য হয়ে মজুমদার মশাই বিভিন্ন থানা, হাসপাতালে টেলিফোনে খোঁজ নেওয়া শুরু করে দিলেন। - খবর পাওয়া গেল মোটর গাড়ির চাপে আহত একটি ছেলেকে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে আনা হয়েছে - ছেলেটির নাম দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার। এক ডাক্তারের গাড়িতে ছেলেটি চাপা পড়েছে আর সেই ডাক্তারবাবু ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মাধববাবু ছুটে এলেন ভবানীপুর সাউথ সবার্বন (মেইন) স্কুলের মাষ্টার শ্রীযুক্ত অক্ষয় কুমার মজুমদারের বাড়িতে, তাঁকে নিয়েই চলে আসেন হাসপাতালে। - দেখেন হাতে পায়ে মাথায় ব্যানডেজ বাঁধা, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অযত্নে পড়ে আছে শ্রীমান। হাসপাতালে সেই সময়ের কর্ত্তব্যরত ডাক্তার, মোটর দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পরিচয় পেয়ে কিছুটা ভালো ব্যাবস্থা করে দিলেন।
কি ভাবে, কেউ জানেন না, খবরটা ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের কানেও পৌঁছোয়। পরদিন তিনি ঐ হাসপাতালে এসে দুর্গাপ্রসাদের জন্য কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল যে ডাক্তারের গাড়ীতে সে চাপা পড়েছিল, সেই ডাক্তার হচ্ছেন, আবার ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের ছাত্র। ঐ হাসপাতালেরই এক ডাক্তার। এই সব যোগাযোগের ফলে শ্রীমান দুর্গাপ্রসাদের জন্য দিন রাত্রির নার্স আর চিকিৎসার ভালো ব্যাবস্থা হলো। সকলের চেষ্টায়, মোটর দুর্ঘটনার চার দিন পর, তার জ্ঞান ফেরে কিন্তু সে কাউকে চিনতে পারে নি - ভুল বকে। ডাক্তারদের মতে মস্তিষ্কেই আঘাত সব চেয়ে বেশী। এদিকে রামঠাকুর তখন চট্টগ্রামে।
পুত্রের প্রাণভিক্ষা ও মঙ্গল কামনার কাতর আবেদন জানিয়ে মাধববাবু ঠাকুরকে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই চিঠির কোন উত্তর নেই। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল ... "শ্রীমানের জীবন সংশয়, অথবা প্রাণ রক্ষা পাইলেও পাগল হইয়া থাকিবে।"...তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় দুর্গাপ্রসাদ একটু ভালো হলে মাধববাবু তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন- অসুস্থ দুর্গাপ্রসাদকে রাখেন তিন তলার এক ঘরে।
-নির্জন দুপুরে দুর্গাপ্রসাদের মা দুর্গাপ্রসাদের ঘরের দরজায় বসে একমনে ঠাকুরের চিন্তা করছিলেন এমন সময় দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের অনুভব হলো কে যেন পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। পিছন ফিরে তিনি ঠাকুরকে দেখেই হতভম্ব। নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- "ঠাকুর মশায়! কোথা হইতে আসিলেন? একা একা কি করিয়া আসিলেন, এ বাড়ি তো আপনি চিনেন না, আর তো কোন দিন আসেন নাই।" ঠাকুরকে দেখে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন রোদে পুড়ে লাল হয়ে গিয়েছেন। ঠাকুর বলেছিলেন, 'স্মরণ করিয়াছেন তাই আসিয়াছি, স্মরণ করিলে বাড়ি চিনিবার প্রয়োজন হয় না, ঠিকানাই বাড়ি চিনাইয়া দেয়।" দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরকে সমস্ত ঘটনাই বলেন। "জানি", একথাটা বলেই ঠাকুর নীরব। শ্রীমানের মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে আশীর্ব্বাদ করে ঠাকুর বললেন "রাস্তায় হাটার সময় নাম করিতে পার না, তাহা হইলে তো আঘাত লাগিত না।' রামঠাকুর এবার ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ফিরে যাওয়ার জন্য।
মাধববাবুর স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর তাঁকে বললেন, গত রাতেই তিনি ১১ নং আর্ল স্ট্রিটে কুঞ্জবাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন। সেখানেই ফিরে যাবেন। "এখন আসি" এই বলেই ঠাকুর সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে লাগলেন, দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরের সাথে নীচে নেমে এলেন।
সে বাড়িতে একটাই মাত্র সদর দরজা। দরজায় বাড়ি ওয়ালার ২৫/২৬ বছরের ছেলেটি বসেছিল, বাড়িতে কেউ নেই - বাধ্য হয়ে ঐ ছেলেটিকেই ঠাকুরের জন্য টেক্সী ডেকে দেবার অনুরোধ করেন দুর্গাপ্রসাদের মা। এর মধ্যেই বাড়ির সদর দরজায় একটা টেক্সী এসে দাঁড়ায় -ঠাকুর তখনই উঠে বসলেন। টেক্সী ভাড়া বাবদ তিনি দুটো টাকা দিলেন ঠাকুরের হাতে। ঠাকুর টাকা দুটো ড্রাইভারের হাতে দিয়ে গাড়ী ছেড়ে দিতে বলেন। -গাড়ী চলে গেল। বাড়ি ওয়ালার ছেলেটি অনুসন্ধিৎসু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, "এই বৃদ্ধ কে? আপনার কে কি হয়, কখন আসিয়াছেন, আবার এখনই চলিয়া গেলেন কেন?" ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের উত্তর "ইনি আমার বাবা, আমার ছেলের অসুখ, আধঘন্টা আগে তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন, আবার এখন অন্যত্র চলিয়া গেলেন।" ছেলেটি অবাক হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে "ওঁকে-ত এই কয় দিনের মধ্যে আর দেখি নাই। আজও এক ঘন্টার অধিক সময় এই খানেই বসিয়া আছি ভিতরে যাওয়ার সময়ে তো দেখি নাই।" আপনার হয়তো সময়ের ভুল হইয়াছে।"
ইতিমধ্যে আর এক কান্ড - সেই টেক্সী ড্রাইভার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, "মা! আমি আপনার বুড়া বাবাকে হারাইয়া ফেলিয়াছি। তিনি গাড়িতে উঠিয়াই আমার হাতে দুইটি টাকা দিলেন। হাজরা মোড়ে একটা বড় দোকানের সামনে গাড়ি থামাইয়া দোকানে ঢুকিলেন। অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত তিনি না আসায় দোকানে যাইয়া বুড়া বাবার চেহারার বর্ণনা দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম তিনি কোথায়? তাহারা কিছুই বলিতে পারিল না। কেবল বলিল এমন লোক কেহ দোকানে আসে নাই।"
পরের ঘটনা শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদারের ভাষাতেই লিখেছি...."কুঞ্জ বাবুর বাড়িতে পর দিন প্রাতে যাইয়া ঠাকুরের বিষয় অনুসন্ধান করিলাম। তাঁহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ই জানালেন যে পর্যায়ক্রমে এই ঘরের দরজায় পাহারায় রত আছেন, কাহারও ঘরে যাইবার হুকুম নাই, তিনি গোপনে আছেন। তবে তিনি কাল ঐ সময় ঘরের বাহির হন নাই, ইহা নিশ্চিত। এই হেয়ালি আজও হেয়ালিই রহিয়া গিয়াছে।"...
মাধব বাবু আরও লিখেছেন..."এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করিবার উদ্দ্যেশ্য আমার আর কিছুই নহে ঠাকুর অনেক সময় কথাচ্ছলে বলিয়াছেন যে "যখনই কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছি, সেই সময়ে ভ্রমশূন্য হইয়া কাজ করিবেন।" এই বাক্যের সত্যতা প্রমানের নির্দ্দেশই হইল এই ঘটনা। অবশ্য এই বাক্য দৃঢ় ভাবে হৃদয়ে আঢ্য করিয়া রাখা আমাদের ন্যায় সাধারণ জীবের পক্ষে সহজ সাধ্য নহে। ....
"তাঁহার অশির্ব্বাদে আমার ছেলে সুস্থ হইয়া উঠিয়াছে এবং মস্তিষ্কেরও সুস্থতা ঘটিয়াছে।"... এই ঘটনার কিছুদিন পরেই মজুমদার মশাইকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

 

 

 

 

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 
 
 
নাম যখন পাইয়াছেন তখন যে অবস্থাই হউক না,
এই দেহ ত‌্যাগের পর নিত‌্যধামে স্থিতি হইবেই নিশ্চয়।
-বেদবানী- ২/৮৯
-শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

প্রাণ গোবিন্দ প্রাণ গোপাল—কেশবঃ মাধবঃ দীনঃদয়াল
দীনঃদয়ালু প্রভু দীনঃদয়াল পরমদয়ালু প্রভু পরমদয়াল
গুরুর নামোঃ বৈ কেবলম্ — গুরুই কৃপাহি্ কেবলম্।।।।
জয় রাম । সকল বন্ধু ও গুরু ভাই বোনদের জানাই.
শুভ সুপ্রভাত 🌺🌿
.... জয় রাম জয় গোবিন্দ।
গুরু কৃপাহি কেবলম্। 🌺🌿🙏🙏🙏
🧡🌿জয় রাম জয় গোবিন্দ!
গুরু কৃপাহি কেবলম্! 🌺🌿🙏

 

 

দেবতারা যাঁর সেবা করবার জন্য সতত উন্মুখ, সেই দেবসেব্য শ্রীশ্রী ঠাকুর ভক্তদের কিভাবে সেবা করেছেন- তাঁর মাধুর্যমন্ডিত লীলা দেখতে পাই 'শ্রুতিতে রামঠাকুর' গ্রন্থের ১ম খন্ডের ৫ম সংখ্যক কাহিনীতে। কলকাতার ঢাকুরিয়া নিবাসী পরম ভক্ত শ্রদ্ধেয় মতিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় সকালে বাজারে যাচ্ছেন। এমন সময় শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুকে আদেশ করলেন- বাজার থেকে যেন চিতলের পেটি ও বুক লাল কই মাছ আনা হয়। ঠাকুরের এই নির্দেশে মতিবাবু বিস্ময়ে হতবাক। ক্ষুধা-তৃষ্ণা রহিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের হঠাত মাছের কী বা প্রয়োজন? কিন্তু গুরুবাক্য শিরোধার্য করে উক্ত দ্রব্যাদি মতিবাবু বাজার থেকে আনলেন। ঠাকুর উত্ফুল্ল চিত্তে মতিবাবুর সহধর্মিনীকে মাছ রান্নার পদ্ধতি বিশদভাবে বুঝিয়ে দিলেন। দীর্ঘদিন পর হঠাত ঐ দিনই বেলা ১২ টার সময় ডাঃ জে.এম দাশগুপ্ত এসে হাজির মতিবাবুর বাড়িতে। ঠাকুর তাঁকে এখানেই দ্বিপ্রাহরিক আহার করতে বললেন। বাড়িতে খবর পাঠানোর জন্য ডাক্তারবাবু তাঁর ড্রাইভারকে পাঠালেন এবং ঠাকুরের নির্দেশ মতো ফেরার পথে দুই প্যাকেট সিগারেট আনতে বললেন। এদিকে ডাক্তারবাবু স্নানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুর সহধর্মিনীর কাছ থেকে তেল এনে ডাক্তারবাবুর মাথায় ঘষছেন। ঠাকুরের এই আচরণে ডাক্তারবাবু খুব অস্বস্তি বোধ করছেন। ভক্তবত্সল ঠাকুরের ভক্তসেবা এখানেই থেমে রইল না। ডাক্তারবাবুর স্নানের জন্য এক বালতি জল টিউবওয়েল পাম্প করে তুলে রেখেছেন। ডাক্তারবাবু তো মহাবিপদে পড়লেন। স্বয়ং ভগবানের আনা জলে ভক্ত স্নান করবেন-এটা কখনো সম্ভবপর? অবশেষে ডাক্তারবাবুর অনেক অনুরোধে ঠাকুরকে এ কাজ থেকে নিরস্ত করা গেল এবং ডাক্তারবাবুর স্নান সম্পন্ন হল।
কিছুক্ষণ পর ভক্তপ্রবর প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয় উপস্থিত হলে ঠাকুর তাঁকেও স্নান করিয়ে দুপুরে খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। ডাক্তারবাবু ঠাকুরকে নিবৃত্ত করে প্রভাতবাবুকে স্নান করিয়ে আনলেন। স্নান সমাপনান্তে দুই ভক্ত বসেছেন দ্বিপ্রাহরিক আহারে। ঠাকুর একটি মোড়ায় বসে তাদের আহারের তদারকি করছেন। ভক্তসেবার পরবর্তী নিদর্শন আরও চমকপ্রদ। ডাক্তারবাবুর ধূমপানের নেশা না থাকলেও, প্রভাতবাবুর ধূমপান করার অভ্যাস ছিল। তাই প্রভাতবাবু অনতিদূরে একটি গাছতলায় বসে বেশ আয়েশ করে সিগারেটে সুখটান দেবার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখেন যে তাঁর পকেটে সিগারেট নেই। সেই সময় ডাক্তারবাবু দু'প্যাকেট সিগারেট এনে প্রভাতবাবুর হাতে দিয়ে বললেন- এই ধূমপানের ব্যবস্থা ঠাকুর স্বয়ং করেছেন। ভক্তসেবা এখানেই শেষ নয়। দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রামের জন্য ঠাকুর নিজ হাতে অনেক যত্ন করে শয্যার ব্যবস্থা করেছেন। মা যেমন তাঁর সন্তানের প্রতি অপত্য স্নেহ ভালবাসায় তার সেবা করেন শ্রীশ্রী ঠাকুরের সেই প্রকার মাতৃবত আচরণে ভক্তদের নয়ন অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠল।

 

 

 

শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏
শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏

 

আমার স্নেহময়ী জননী ময়মনসিংহে ঠাকুরের দর্শন লাভ হলে ঠাকুরকে অনুরোধ করলেন ----কলকাতায় গেলে তিনি যেন ছেলেকে দর্শন দিয়ে কৃপা করেন।  তখন অবশ্য আমাদের সমস্ত পরিবারই রাম ঠাকুরের ভক্ত। ভক্ত বৎসল ঠাকুর সত্য সত্যই কলকাতায় এসে আমার হোস্টেলের ঘরে উপস্থিত। আমি তাঁকে চেয়ারে বসতে দিয়ে, দোকান থেকে দু পয়সার দই নিয়ে এসে ভোগ দিলাম। তিনি আঙুলে করে সামান্য একটু গ্রহণ করে প্রসাদ করে দিলেন। আমি নিজে গ্রহন করে বন্ধুদের মধ্যেও ঠাকুরের প্রসাদ বিতরণ করলাম।
জয় রাম 🌺🌿
"কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর " ----মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়

No comments:

Post a Comment

  আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল । শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম । : - - রোহিণী কুমার মজুমদার । জয় রাম ...