Saturday, 8 November 2025

 

আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম ।
: - - রোহিণী কুমার মজুমদার ।
জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
শুভ সকাল ।
একদিন সন্ধ্যার পর একাকী বেড়াইয়া বাড়ি ফিরিতেছিলাম ,
এমন সময় দেখি শ্রীঠাকুর আমাদের বাড়ির নিকট একটি
মিষ্টির দোকানে প্রবেশ করিলেন ।
আমি দোকান হইতে একটু দূরে দাঁড়াইয়া দেখিলাম ঠাকুর
এক হাঁড়ি রাবড়ি হাতে লইয়া বাহির হইয়া বাড়ির দিকে
রওয়ানা হইলেন ।
রাস্তায় চলার সময় শ্রীঠাকুর কখনও পিছন ফিরিয়া
তাকাইতেন না ।
সুবিধা বুঝিয়া আমি ঠাকুরের পিছন পিছন চলিলাম ।
দেখিলাম শ্রীঠাকুর চলিতে চলিতে বাড়ির দরজা অতিক্রম করিয়া গেলেন ।
কয়েকখানি বাড়ির পরে একটি পুকুরের ধারে একটি
আঁস্তাকুড় ছিল ।
সেখানে ভাঙ্গা হাঁড়ি , ছেঁড়া মাদুর , ছেঁড়া বালিশ ও নানা
রকমের আবর্জনা ফেলা হইত ।
স্থানটি নানারকমের জঙ্গলা গাছে ভর্তি ।
সেই আঁস্তাকুড়ে রাবড়ির হাঁড়িটি রাখিয়া শ্রীঠাকুর বাড়ির
দিকে রওনা হইলেন ।
ঠাকুরকে বাড়িতে ফিরিতে দেখিয়াই আমি একরকম
দৌড়াইয়া ই বাড়ি ফিরিয়া আসিলাম ।
বাড়ি ফিরিয়া ঠাকুর হাত-মুখ ধুইয়া নিজের বিছানায়
গিয়া বসিলেন ।
আমি ভয়ে ভয়ে ঠাকুরের কাছে আসিয়া বসিলাম ।
তাহার পায়ে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলাম ,
ঠাকুর , আজ বড় অন্যায় কাজ করিয়াছি ।
আপনি প্রায়ই রাবড়ি আনেন অথচ খান না ।
আজ তাই রাবড়ির হাঁড়িটি হাতে করিয়া দোকান হইতে বাহির হইলেন দেখিয়া আমি আপনার পিছন পিছন গিয়াছিলাম ।
দেখিলাম , আপনি রাবড়ির হাঁড়িটি একটা আঁস্তাকুড়ের
ভিতরে রাখিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিলেন ।
আপনাকে ফিরতে দেখিয়া আমি দৌড়াইয়া আপনার পূর্বেই বাড়ি আসিয়াছি ।
শ্রীঠাকুর বললেন , দেখেন না ,
ঐ আত্মাটি (যেটি আমাদের বাড়িতে আছে ) আমারে সারা
রাত্রি ধরিয়া ঘুমাইতে দেয় না ।
সমস্ত রাত্রি ধরিয়া আমার নিকট রাবড়ি চায় ।
ঐ আত্মাটির এত অনুরোধ সহ্য করিতে না পারিয়া আজ তাহাকে রাবড়ি খাওয়াইয়া আসিলাম ।
দোকান হইতে রাবড়ি বাকিতে আনিয়াছি ।
আগামীকাল আপনি ঐ দোকানে দুই টাকা চার আনা
দিয়া আসিবেন ।
রাবড়ি ঐ আত্মাটি সত্যসত্যই খাইয়াছে কিনা এবং কেমন করিয়া খাইল জিজ্ঞাসা করিলে শ্রীঠাকুর বলিলেন ,
রাবড়ির হাঁড়িটি রাখিবার মাত্র একটি কালো ছায়া ঐ হাঁড়ির উপর আসিয়া পড়িল ,
একটা চপ চপ মতন শব্দ শুনিতে পাইলাম ।
আপনি নিজেই গিয়া রাবড়িপূর্ণ হাঁড়িটি কি অবস্থায় রহিয়াছে দেখিয়া আসেন ।
আমি তখনই একটি জলন্ত হারিকেন হাতে করিয়া সেই আঁস্তাকুড়ে গিয়া দেখিলাম রাবড়িপূর্ণ হাঁড়িটি একেবারেই
খালি পড়িয়াছে ।
বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া শ্রীঠাকুরকে বললাম ,
আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম ।
শ্রীঠাকুর আমার গায়ে ও মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন ।
" জয়রাম "
রোহিনী কুমার মজুমদার
" শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর ॥"
পৃষ্টা সংখ্যা ৩১ হইতে ।

 

,🙏🌹নামই হইল গুরুমূর্তি🌹🙏
প্রশ্ন- নামের প্রকাশ কি?
উত্তর - নিরাকার,অব্যক্ত,অরূপ নাম স্বয়ং অহৈতুকি দয়া পরবশে জীব-কল্যাণে নামময়, রূপময় অপ্রাকৃত দেহ ধারণ কইরা ব্যক্ত হওয়ারে নামের প্রকাশ বলে। এই দেহের উৎপত্তি নামে, নিষ্পত্তি নামে। যেমন জল আর বরফ। বরফের উৎপত্তি জলে, পুনরায় নিষ্পত্তিও জলে। সেইরকম নামময় দেহ ও দেহী, নামী এক ও অভিন্ন। নামী বলে প্রাণের, আত্মারে। প্রাকৃত দেহধারী জীবের দেহ ও দেহী ভিন্ন। যেহেতু দেহ পঞ্চভৌতিক দেহ।
প্রশ্ন -নামের প্রকাশ কি এবার বুঝতে পেরেছি। স্ত্রোত্রে পেয়েছি ধ্যানমূলম্ গুরুমূর্তি। তা হলে ধ্যান করব গুরুমূর্তি। নয় কি?
উত্তর - গুরু বলতে নামী গুরু। অতএব নাম হইল গুরুমূর্তি। ধ্যান বলে চিন্তারে। নাম চিন্তায় গভীরভাবে নিমগ্ন থাকারে ধ্যান বলে। নাম চিন্তায় করলেই গুরু মূর্তির চিন্তা করা হয়। পৃথকভাবে গুরুমূর্তির চিন্তা করতে হয় না।
(ফণিন্দ্র কুমার মালাকার রচিত
রাম ভাই ষ্মরনে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭০)
🙏🌹 জয়রাম জয়গোবিন্দ 🌹🙏

 

জয়রাম 🙏 জয়গোবিন্দ
শ্রীশ্রীঠাকুরের অমৃত বাণী -
নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধ মনের সঙ্গে হয় না, প্রাণের সঙ্গে গাঁথা থাকে বলিয়া নাম লয়। মনের দ্বারা সুখ দুঃখ ভোগ হয়, মনের সঙ্গকে ভাগ্য, অদৃষ্ট বলিয়া তত্ত্বদর্শিগণ নির্ণয় করিয়াছেন।
"মনঃ করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈঃ"
অতএব নাম লইয়া পরিয়া থাকাই কর্ম্ম, নাম ধরিয়া রাখাই ধর্ম্ম, মনের দ্বারা যে সকল কার্য্য হয়
(তাহা) কল্প ক্ষয়শীল।
" নাম তিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহঃ।
নিত্যশুদ্ধো নিত্যমুক্তোহভিন্নাত্মা নাম নামিনোঃ।।"
....... নামের কোন শব্দ অর্থ নাই, নাম সত্য, নিত্য, তাহার কীর্ত্তনই আনন্দ। এইজন্য লোকে সত্যনারায়ণ বলে।
বেদবানী - ৩/১৩.

Saturday, 16 August 2025

 মনসাপূজার প্রচলন কিভাবে?

আদ্যাশক্তি মহামায়ার অনন্ত তাঁর রূপ, অনন্ত তাঁর বৈচিত্র্য, অনন্ত তাঁর বৈভব। তাঁর কোন নিদিষ্ট মূর্তি নেই। সাধকের কল্যাণার্থে বিভিন্ন রূপে তিনি প্রকাশিত হন। মা আদ্যাশক্তির অনন্ত রূপের মধ্যে বঙ্গদেশে খুবই জনপ্রিয় পূজিত বিগ্রহ হলেন দেবী মনসা। যিনি মহাজ্ঞানযুক্তা, জ্ঞানিদের প্রধানা, শ্রেষ্ঠা, সিদ্ধগণের অধিষ্ঠাতৃদেবী, সিদ্ধিস্বরূপিনী এবং সিদ্ধিদায়িণী। পৌরাণিক এবং লৌকিক দুটি উৎসেই অসংখ্য গল্প কাহিনী রচিত হয়েছে দেবীর মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে। দেবী মনসা যে ব্রহ্মস্বরূপিনী আদ্যাশক্তি; বিষয়টি দেবীভাগবতের নবমস্কন্ধের আটচল্লিশতম অধ্যায়ের শুরুতেই আমরা এর উল্লেখ পাই। সেখানে বিস্তারিত দেবীমাহাত্ম্য বর্ণিত আছে।
শ্বেতচম্পকবর্ণাভাং রত্নভূষণভূষিতাম্।
বহ্নিশুদ্ধাংশুকাধানাং নাগযজ্ঞোপবীতিনীম্।।
মহাজ্ঞানযুতাং তাঞ্চ প্রবরজ্ঞানিনাং বরাম্।
সিদ্ধাধিষ্ঠাতৃদেবীঞ্চ সিদ্ধাং সিদ্ধিপ্রদাং ভজে।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮.২-৩)
"যাঁর দেহের বর্ণ শ্বেতচম্পক ফুলের মত শুভ্র, অঙ্গে বিবিধ প্রকারের রত্নভূষণ শোভা পাচ্ছে, যিনি অগ্নিবর্ণের রক্তিম বস্ত্র পরিধান করে আছেন; যিনি মহাজ্ঞানযুক্তা, জ্ঞানীদের প্রধানা, শ্রেষ্ঠা, সিদ্ধগণের অধিষ্ঠাতৃদেবী, সিদ্ধিস্বরূপিনী এবং সিদ্ধিদায়িনী তাঁর সদা ভজনা করি।"
স্বয়ং প্রকাশিতা আদ্যাশক্তি দেবী নাগ ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত জীবদের রক্ষার্থে পুরাকালে আবির্ভূত হন। নাগের আক্রমণ হতে রক্ষার জন্যে, কশ্যপ মুনি মানব রক্ষায় যখন চিন্তিত মনে ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন, তখন কাশ্যপ মুনির চিন্তিত মনের মাঝেই দেবী প্রকাশিত হন। তাঁর কোন জন্ম নেই, জীবদের রক্ষার্থে তিনি আবির্ভূত হয়ে রক্ষা করেন, লীলা করেন।অনন্ত রূপধারিণী লীলাময়ী তিনি। চিন্তার অতীত তাঁর স্বরূপ, তিনি যতটা কৃপা করে জানান ; মায়াবদ্ধ জীব ততখানিই তাঁকে জানতে পারে।
পুরা নাগভয়ক্রান্তা বভূবুর্মানবা ভুবি ।
গতাস্তে শরণং সর্বে কশ্যপং মুনিপুঙ্গবম্ ।।
মন্ত্রংশ্চ সসৃজ্যে ভীতঃ কশ্যপো ব্রহ্মণান্বিতঃ ।
বেদবীজানুসারেণ চোপদেশেন ব্রহ্মণঃ ।।
মন্ত্রাধিষ্ঠাতৃদেবীং তাং মনসা সসৃজ্যে তথা ।
তপসা মনসা তেন বভূব মনসা চ সা ।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮.১১-১৩)
"পুরাকালে পৃথিবীতে নাগের ভয়ে ভীত হয়ে মনুষ্যগণ জীবন রক্ষার্থে মুনিশ্রেষ্ঠ কশ্যপের শরণাপন্ন হন। ভীত মনুষ্যদের বর্ণনা শুনে, কশ্যপ মুনিও ভীত হয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। তখন ব্রহ্মার আদেশে কশ্যপ মুনি নাগভয় থেকে মুক্তির জন্য এক বেদোক্ত বীজ অনুসারে জপ-ধ্যান শুরু করলেন। তৎকালে মন্ত্রের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা ধ্যানরত কাশ্যপ মুনির মন হতে আবির্ভূত হলেন; তাই তাঁর নাম হল মনসা।"
আদ্যাশক্তির মহামায়ার অনন্ত রূপের মধ্যে সৃষ্টি স্থিতি এবং লয়ের অধিষ্ঠাত্রী হিসেবে পূজিত সরস্বতী, লক্ষ্মী এবং কালী। এ সকল প্রধান রূপ থেকেই মনসা দেবী অভিন্ন। তাই মনসাদেবীর দ্বাদশাক্ষর বীজমন্ত্রে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, কালী এবং সরস্বতী এ সকলেরই অধিষ্ঠান দেখা যায়। এ কল্পতরু স্বরূপ বীজমন্ত্রটি হল: "ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহা।" তাই কেউ দেবীকে সদা চিন্তন করেও মুক্তিলাভ করতে পারে। তিনি ব্রহ্মস্বরূপিনী কুলকুণ্ডলিনী শক্তি। নাগ তাঁর গায়ের যজ্ঞোপবীত। নাগের সাথে যোগের এবং যোগীর নিকট সম্পর্ক। তাই শিবের গায়েও নাগের যজ্ঞোপবীত দেখা যায়। নাগ গুহাবাসী, শীতের কয়েকটি মাস, শুধু বায়ু ভক্ষণ করেই বা সামনে যা খাবার আসে তাই ভক্ষণ করে অযাচক বৃত্তিতে তাই গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। এমন আচরণ পর্বত গুহাতে বসবাসকারী একজন যোগীর জীবনেও দেখা যায়। তাই রঘুনন্দন ভট্টাচার্য তাঁর 'অষ্টাবিংশতিতত্ত্ব' নামক সুবিখ্যাত গ্রন্থে পদ্মপুরাণোক্ত দেবী মনসার একটি ধ্যানমন্ত্রে উদ্ধৃত করেছেন। সে ধ্যানমন্ত্রটি আজও বহুল ব্যবহৃত দেবীর পূজায়। ধ্যানমন্ত্রটিকে দেবীকে যায়, 'কামরূপাম্' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহাযোগিনী দেবী কামেশ্বরী রূপে প্রত্যেকটি জীবকে নাগরূপা কুলকুণ্ডলিনী শক্তি দ্বারা জীবের কামনা বাসনা থেকে মুক্ত করেন।
দেবীমম্বামহীনাং শশধরবদনাং চারুকান্তিং বদন্যাং
হংসারূঢ়ামুদারামরুণিতবসনাং সর্বদাং সর্বদৈব।
স্মেরাস্যাং মণ্ডিতাঙ্গীং কণকমণিগণৈর্নাগরত্নৈ-র্বন্দেহং সাষ্টনাগামুরুকুচযুগলাং ভোগিনীং কামরূপাম্।।
"সর্পকুলের জননী, চন্দ্রবদনা, সুন্দর কান্তি বিশিষ্টা, বদন্যতাগুণসম্পন্না, হংসবাহিনী, উদার স্বভাবা, রক্তবস্ত্র পরিহিতা, সর্বদা অভিষ্ট প্রদায়িনী, সহাস্য বদনা, কণকমনি এবং নাগশ্রেষ্ঠগণের দ্বারা ভূষিতাঙ্গী,অষ্টনাগ পরিবৃতা, উন্নত কুচযুগল শোভিতা, ভোগিনী, কামরূপা দেবীকে সদা বন্দনা করি।"
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের প্রকৃতিখণ্ডে দেবীর সামবেদোক্ত দেবীপূজা বিধানের সাথে দেবীর ধ্যানমন্ত্র এবং দেবীর কল্পতরুবৃক্ষের ন্যায় দ্বাদশাক্ষর যুক্ত মূলমন্ত্রও বর্ণিত হয়েছে। সে মন্ত্রের মন্ত্রসিদ্ধি লাভ করলে জীব, ধন্বন্তরিসদৃশ হয়। তখন তার কাছে ভয়ংকর হলাহল বিষ পর্যন্তও অমৃতের ন্যায় সুখকর হয়।
নারায়ণ উবাচ।
পূজাবিধানং স্তোত্রঞ্চ শ্ৰুয়তাং মুনিপুঙ্গব ।
ধ্যানঞ্চ সামবেদোক্তং দেবীপূজাবিধানকম্ ॥ শ্বেতচম্পকবর্ণাভাং রত্নভূষণভূষিতাম্। বহ্নিশুদ্ধাংশুকাধানাং নাগযজ্ঞোপবীতিনীম্‌ ॥ মহাজ্ঞানযুতাঞ্চৈব প্রবরাং জ্ঞানিনাং সতীম্। সিদ্ধাধিষ্ঠাতৃদেবীঞ্চ সিদ্ধাং সিদ্ধিপ্রদাং ভজে ॥
ইতি ধ্যাত্বা চ তাং দেবীং মূলেনৈব প্রপূজয়েৎ । নৈবেদ্যৈৰ্ব্বিবিধৈদীপৈঃ পুষ্পৈর্ধূপানুলেপনৈঃ ॥
মূলমন্ত্রশ্চ বেদোক্তো ভক্তানাং বাঞ্ছিতপ্রদঃ ।
মুনে কল্পতরুর্নাম সুসিদ্ধো দ্বাদশাক্ষরঃ ॥
ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্রীং ঐং মনসাদেব্যৈ স্বাহেতি কীৰ্ত্তিতঃ ।
পঞ্চলক্ষজপেনৈব মন্ত্রসিদ্ধির্ভবেন্নৃণাম্‌ ॥ মন্ত্রসিদ্ধির্ভবেদ্যস্য স সিদ্ধো জগতীতলে।
শুধাসমং বিষং তস্য ধন্বন্তরিসমো ভবেৎ ॥
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ : প্রকৃতি খণ্ড, ৪৬.১-৭)
"নারায়ণ বললেন, হে মুনিবর! মনসাদেবীর পূজাবিধি, সামবেদোক্ত ধ্যান প্রভৃতি পূজার উপযোগী বিষয় শ্রবণ কর। যাককর বর্ণ শ্বেতচম্পকসদৃশ শুভ্র, অঙ্গে নানাপ্রকার বহুমূল্য সুবর্ণভূষণ শোভিত, পরিধানে বহ্নিশুদ্ধ বস্ত্ৰ ; যিনি নাগরূপ যজ্ঞোপবীত ধারণ করে আছেন ; যিনি মহাজ্ঞানযুক্তা এবং জ্ঞানিগণের প্রধানা, পতিব

Thursday, 7 August 2025

 

গুরু কে?" ১৪।
গুরু পরমাত্মা,জীব ও প্রকৃতি এই তিনটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত,
পরম ব্রহ্ম জ্ঞানে জ্ঞানী হন গুরু,দায়িত্ব নিয়ে করেন উদ্ধার।
'আমি কে?'আমি কোথায় ছিলাম 'এখানে কেন এলাম',আমার কর্ম্ম কি, তারপর কোথায় যাবো এইসব অজ্ঞান অন্ধকারে,
আলোর পথের সন্ধান দেন গুরু শাস্ত্র মন্ত্র ধীশক্তি উপায় প্রদানে।
বেদোজ্বল বুদ্ধি, দেবোজ্বল ভক্তি দিয়ে বিবেকে অধ্যাত্ম যিনি জাগান,
তিনিই গুরু জীবের উদ্ধার কর্তা,ঈশ্বর প্রাণতা করেন ভব পারাপার

🌸 গুরু কে? 🌸

🔹 গুরু পরমাত্মা, জীব ও প্রকৃতির ত্রিবিধ রহস্যের জ্ঞাতা।
🔹 তিনি পরম ব্রহ্মজ্ঞান দ্বারা জ্ঞানী হয়ে জীবের উদ্ধার করেন।
🔹 “আমি কে? কোথায় ছিলাম? কেন এলাম? আমার কর্ম কী? এরপর কোথায় যাব?” — এই অজ্ঞান অন্ধকারের প্রশ্নগুলোর আলোকিত উত্তর দেন গুরু।
🔹 শাস্ত্র, মন্ত্র ও ধীশক্তির মাধ্যমে তিনি দেখান আলোর পথ।
🔹 বেদোজ্বল বুদ্ধি ও দেবোজ্বল ভক্তি দিয়ে তিনি জাগান অন্তরের বিবেক।
🔹 তিনিই জীবের উদ্ধারকর্তা — গুরু, যিনি ঈশ্বরপ্রাণতা দিয়ে করেন ভবপারাপার।

🙏🌼 জয় গুরু 🌼🙏
🌸 গুরু কৃপাহি কেবলম 🌸

#গুরু_তত্ত্ব #SriSriRamthakur #Vedbani #SpiritualWisdom #GuruKripa #JoyGuru #Bhakti #DivineKnowledge #আধ্যাত্মিক_পথ #SanatanDharma #Gurudev #গুরু_কৃপাহি_কেবলম

Monday, 7 April 2025

 

ছবিটি কাজাকিস্তানের। একসময় এখানে ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছিল বিশাল এক হ্রদ, নাম আরাল সাগর। বিশালতার কারণেই এটি পরিচিত ছিল সাগর হিসেবে। সময়ের বিবর্তনে সেই হ্রদ শুকিয়ে গিয়ে এখন সেটা ধু ধু মরুভূমি!
যারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আত্মবিশ্বাসী এবং সেটাকে অহংকারের পর্যায়ে নিয়ে যায় তাদের জন্য ছবিটি প্রতীকী।
সময় যখন বদলায় সাগরও শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়। সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা অর্থ-সম্পদ, রূপ-গুণ বা ক্ষমতার দম্ভে সবাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টায় মেতে ওঠে। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে সবারই সময় ফুরিয়ে আসবে একদিন! তাই মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারের বিকল্প নেই।
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ।
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
জয় গুরু <> জয় রাম <>
জয় গোবিন্দ * * * * * * *
~
১৯৪২ সালের গোড়ার দিকে একটানা চার ছয় মাস ধরে
ঠাকুর আমাদের বাড়ীতেই আছেন ।
তখন দেখতাম প্রায় সর্ব্বদা তিনি একটি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা খুলে সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করতেন ।
আর মাঝে মাঝেই বলতেন ,
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ,
আপনারা সকলে সত্যনারায়ণের সেবা করেন ।
ঠাকুরের এই কথা সত্ত্বেও তখন কেউই সত্যনারায়ণে
মন দিত না ।
তবে শুনেছি আশ্রিতদের মধ্যে দুই এক জন ১৯৪২ সালের পূর্বেরও ঠাকুরের মুখে সত্যনারায়ণের সেবা র কথা শুনেছেন এবং ঠাকুরের সত্যনারায়ণের পূজা করেছেন ।
ক্রমে সত্যনারায়ণের সেবা র প্রচলন ভক্ত মহলে বহুল হয়
এবং সত্যনারায়ণ যে ঠাকুরের অংশ সে সম্বন্ধে আর কারোরই কোন সংশয় থাকলো না ।
যখন কয়েক বৎসর পরে ঠাকুর নিজ হস্তে আমার স্বামীকে (কুঞ্জলাল মজুমদারকে) নোয়াখালী , চৌমুহনি থেকে
পাঁচ টাকা পাঠিয়ে লিখেছিলেন ,
" কুঞ্জবাবুর জন্য ।
দয়া করিয়া এই তোমার সিন্নির পাঁচ টাকা গ্রহণ করিবা ,
ইতি দয়াময় সত্যনারায়ণ " ।
যাই হোক , দেখতাম ঠাকুর সময় পেলেই সত্যনারায়ণের
পাঁচালী পাঠ করতেন ।
একদিন এমনই হইল ,
বেলা এগারটায় ভোগ সাজানো হয়ে গেছে ।
আসন পাতা , ঠাকুর পাঁচালী পাঠে মগ্ন ,
বেলা বারোটার পর তার পাঠ শেষ হলো ।
তখন তিনি নেমে এসে ভোগের সামনের আসনে বসলেন ।
এই রকম মানোনিবেশ করে কোন বই পড়তে আমরা তো কখনও দেখিনি ,
শুনিও নি কারোর কাছে যে ঠাকুর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনও বই , তাও আবার সশব্দে,
কোনও দিন পড়েছেন তাঁর লীলা বিচিত্র ।
এর কারণ আমরা কি বা বুঝবো।
জয় রাম জয় গোবিন্দ
শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার ।
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮ হইতে ।
জয় গুরু সত্য নারায়ণ। জয় শ্রী রাম ঠাকুর।।

আমি আপনেগ ছাড়মু না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখতে পাই ।
তবুও কোন ভয় নাই ।
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
জয় গুরু জয় রাম ।
সুপ্রভাত শুভেচ্ছা ।
কৈবল্যনাথ কে?
শ্রীশ্রী রামঠাকুর স্বয়ং কৈবল্যনাথ অর্থাৎ জগন্নাথ ।
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের শ্রীপটে আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রী ঠাকুর চাদর গায়ে আছেন ।
ভালো করে লক্ষ করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে কৈবল্যনাথ জিউর কোন হাত নেই ।
তাই তিনি স্বয়ং জগন্নাথ ।
আর কৈবল্য কথার অর্থ মুক্তি ও কৈবল্যনাথ কথার অর্থ মুক্তিদাতা ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরই স্বয়ং মুক্তিদাতা ।
একটা কথা ভাবতে অবাক লাগছে যে আজকাল অনেক চিঠিতে লেখা হচ্ছে কৈবল্যনাথের মোহন্ত মহারাজ ।
অথচ আগে লেখা হতো কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ । কৈবল্যনাথ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ ।
তাই কৈবল্যনাথের মোহন্ত কখনও হওয়া উচিৎ নয় ,
কেননা ভগবানের মোহন্ত কথার কোন প্রশ্নই উঠে না ।
ভগবান সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মালিক ।
তাই কৈবল্যধামের মোহন্ত লেখাই বাঞ্ছনীয় ।
আমি মূর্খ ,
তবুও আমার ভিতরের উপলব্ধি থেকে কথাটা ব্যক্ত করলাম । তাই আমি ক্ষমা প্রার্থী ।
যাক আমরা পরম সৌভাগ্যবান যে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের আশ্রয় লাভ করেছি ।
কিন্তু আমরা বুঝিলাম না তাঁকে ।
অথচ এরকম পরম করুণাময় , দয়াময় ও আশ্রিতজনের /আশ্রিতাজনের সকল সন্তাপ হরণকারী ভগবানকে এখনও কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
কত দয়াল তিনি ।
কেননা তিনি আমাদের সকলকে সর্বদা অভয় প্রদান করেছেন এবং বলেছেন,
" আপনারা আমারে ছাড়লে কি হইব ,
আমি আপনাগো ছাড়ুম না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখিতে পাই ,
তবুও কোন ভয় নাই ,
আমি সর্বদা আপনাদের কাছেই আছি।
কেবল অনন্য লক্ষ রাইখ্যা নাম কইরা যান ।
আমি আপনাগো সময়ে উদ্ধার করুম ।"
তাই আসুন আমরা সবাই শ্রীশ্রী রামঠাকুরের উপদেশ বাণী শিরোধার্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করি এবং একমাত্র
শ্রীগুরু প্রদত্ত " শ্রীনামকে " আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলবো ।
তবেই হবে আমাদের জীবনের সার্থকতা , নচেৎ নয় ।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও আন্তরিক প্রাণের ভালবাসা জানাই ।
জয় রাম ।

শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে (২৯)🌹
ঠাকুরের সহিত ঘাটের সিড়িঁতে নামিতে নামিতে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "ঐ সাধু আপনাকে কেন বাচ্চা বলিলেন, সাধুর বয়স কত হইবে?" ঠাকুর বলিলেন, "ঐ সাধুর বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশী, প্রায় তিন শত বৎসর।"........ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "কি করিয়া সাধুরা ঐ দীর্ঘ তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন?" উত্তরে ঠাকুর বলিলেন, "এই সাধুরা তিন-চারবার তাঁহাদের ইচ্ছামত দেহ পরিবর্ত্তন করেন।" আমাদের বুঝাইবার জন্য তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার বিবরণ দিয়াছিলেন। ___
একবার ঠাকুর একটি নদীর ধার দিয়া যাইতেছিলেন। নদীটি খুব প্রশস্ত নয়। ৪০/৫০ গজ চওড়া হইবে। নদীর এক পার হইতে অন্য পারের গাছপালা মানুষজন সবই পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়। ঠাকুর দেখিলেন নদীর পার দিয়া একজন বৃদ্ধ কমণ্ডলু হস্তে যাইতেছে। সাধু জলের দিকে এমন ভাবে তাকাইয়া যাইতেছেন যে, দেখিয়া মনে হইল তিনি নদীতে কিছু অনুসন্ধান করিতেছেন। কিছুদূর যাইতে না যাইতেই ঠাকুর দেখিলেন নদীর যেদিকে ঠাকুর যাইতেছেন ঠিক তাহার বিপরীত দিক হইতে একটি শব ভাসিয়া আসিতেছে। সাধু তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপাইয়া পড়িলেন এবং সাঁতার কাটিয়া ঐ শবটিকে তীরে উঠাইলেন। শবটি একটি ত্রিশ-বত্রিশ বৎসরের যুবকের। সাধু বেশ পরিষ্কার করিয়া ঐ শবটি মুছিলেন। নিজের ঝুলি হইতে তৈল বাহির করিয়া উহার সর্বাঙ্গে মাখাইলেন। পরে নদীতে নামিয়া নিজে অবগাহন করিলেন ও এক কমণ্ডলু জল লইয়া উপরে উঠিলেন। ঐ জলে স্নান করাইয়া শবদেহটির কপালে সিঁদুরের ফোঁটা দিলেন। শবটিকে চিৎ করিয়া শোয়াইয়া কিয়ৎক্ষণ পূজা করিলেন। এই পূজার পরে সাধু উহার উপরে উপুড় হইয়া শুইলেন। তিনি উহার হাতের সহিত হাত, পায়ের সহিত পা এবং শরীরের সহিত শরীর মিলাইয়া পড়িয়া রহিলেন। প্রায় আধ ঘন্টা পরে নিম্নের শবটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠিল এবং সাধুর শরীর একটি নিষ্প্রাণ শবে পরিনত হইল। নবজন্ম প্রাপ্ত নিচের মানুষটি তখন বুকের উপর হইতে সাধুর নিষ্প্রাণ দেহটি ফেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন এবং সাধুর দেহ টিকে নদীতে ভাসাইয়া দিয়া নিজের গন্তব্যপথে চলিয়া গেলেন। এই সাধুরা বার্দ্ধক্যে দেহ অকর্ম্মণ্য হইলে দেহ পরিবর্ত্তন করিয়া দুই-তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন।
জয় রাম 🌺🌿
"শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর "- শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার।

Sunday, 6 April 2025

 

যোগেশ্বর কর্মকার ঠাকুরের সাথে সাথে বহু জায়গায় যেতেন আর কীর্তনের সময় খোল বাজাতেন তাতে অন্যরা তাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করত শুধু নয়, ঠাকুরও তাকে এটা সেটা দিতেন। কিন্তু ঠাকুরের প্রতি কোনো গভীর বিশ্বাস তার ছিল না। যেতেন কিছু পাওয়ার লোভে। একবার চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারে ঠাকুর আছেন বিধুভূষণ বোসের বাড়িতে। রাতে অনেক শিষ্যরা বসে আছেন। যোগেশ্বর বাবু সেখানে গিয়ে হাজির। ঠাকুর যেখানে বসেছিলেন সেখানে গিয়ে ঠাকুরের দু-পা জড়িয়ে ধরে এনে নিজের কপালে ঠেকালেন।
ঠাকুর বললেন - আহা ভক্তি দেখাইয়া এত নমস্কার করতাছেন। এদিকে ত মনে মনে আমারে লইয়া অকুল সাগরে ভাইস্যা বেড়াইতেছেন।
অন্যান্য আশ্রিত ও ভক্তরাও একথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। ঠাকুর এসব কী বলছেন! ঠাকুরের মুখের দিকে আবার তিনি তাকালেন। ঠাকুর আবার বললেন- মূর্খরা টাকা বাজাইয়া লয়না। নাইলে ধরা পড়লে পুলিশে যাইব এই ডরে চালাকরা টাকা বাজাইয়া লয়। বলতে বলতেই ঠাকুর হেসে উঠলেন। তারপর বললেন- নেন নেন আর বাজান লাগত না। আর মনের সাথে যুদ্ধ করতে হইব না। ঠাকুরকে প্রনাম করে যোগেশ্বর কর্মকার ফিরে এলেন।
পরমেষ্ঠী গুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
ডঃ প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য
পৃষ্ঠা: ৪৪৪
যত্র জীবস্তত্র শিব:।পাশবদ্ধো ভবেদজীব:,
পাশমুক: সদা শিব:।''
প্রকৃতির বর্ণবিবর্ণে বিমোহিত হইয়া,ভাগ্যানুসারে সত্যপদ ছাড়িয়া,সীমাবদ্ধ ক্ষয়শীল দেহ-গেহ,বিদ্যা-বুদ্ধি,ধনী-মানী,শত্রুমিত্রাদির আবর্ত্তনে পড়িয়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা ভাগ্য-ভোগ করিয়া থাকে,এই ভোগ ত্যাগ না হওয়া পর্য্যন্ত মনের জল্পনা কল্পনা বিমুক্ত হইতে পারে না,দেহের বন্ধনও কাটে না জানিবেন।
''মন: করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈ:।'' অতএব মন হইতেই দেহের ভোগ আয়তন করিয়া শান্তিঅশান্তি আদি দ্বন্দ্ব উপভোগ করিয়া থাকে।মনহইতেই দেহে সুস্থ অসুস্থ ইত্যাদি উপলব্ধি হয়।জীব যখন ঘুমায় তখন মন থাকে না,দেহ গেহাদি কিছুই থাকে না।সেইরুপ প্রাণের জানিবেন।
''প্রাণোহি ভগবানীশ: প্রাণো বিষ্ণু: পিতামহ:।
প্রাণেন ধার্য্যতে লোক: সর্ব্বং প্রাণময়ং জগৎ।।''
ঘুমাইলে মনাদি থাকে না।তখন প্রাণ থাকে,অতএব ভাগ্যশীল দেহের স্মিতিরুপ [?] ভাগ্যফল তিতিক্ষা করিয়া কর্ত্তৃত্ব মুক্তদ্বারা সত্যের অর্থ্যাৎ প্রাণের দাস হউন,সত্যনারায়ণ আপনার মঙ্গল করিবেন।ভাগ্য হইতেই লোকে দেহের শান্তি অশান্তি ভোগ পাইয়া থাকে।এই জন্য দেহই ভোগের আয়তনী জানিবেন ''দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্ব্বস্য ভারত।'' দেহ ভাগ্যবর্ত্তে যখনই দেহ ত্যাগ হইবে তখনই বিদেহীরুপ নিত্যানন্দ লাভ করিতে পারিবেন।
-শ্রী শ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ২য় খন্ড(১৪৪)

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 শ্রী শ্রী রামঠাকুর---'' জগতে সমস্তই নশ্বর ,একমাত্র প্রাণবায়ুই সৎ ,প্রাণবায়ুর সঙ্গ করার নাম সৎসঙ্গ ৷''----- জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏🙏🙏
জয় রাম 🙏🙏🙏
যত ঘন ঘন নাম করিবেন তত‌ই
হৃদয়ে স্থির অবস্থা আসিবে।
ইহাকে শিবশক্তি যোগ বলে।
শ্রী শ্রী রামঠাকুর,,,।
রামময় হোক আমাদের সকলের প্রাণ।
<🌹🌹🌹শুভ রাত্রি 🌹🌹🌹>
 
 
 
যখনই  কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছিঃ
১৯৩৭ কিংবা ১৯৩৮ ইং সনে এক কাজের দায়িত্ব পেয়ে জামালপুর থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে এলেন রামঠাকুরের আশ্রিত শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদার। তাঁকে কাজে যেতে হত জি. পি. ও তে। ডিউটি ছিল বেলা দুটো থেকে রাত দশটা। অফিসে যাওয়া আসার সুবিধার জন্য রসা রোডের কাছে মহিম হালদার স্ট্রিটে বাড়ি ভাড়া করে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করে দিলেন। তাঁর বড় ছেলের নাম শ্রী দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার - কলেজে পড়ে, উঁচু ক্লাসের ছাত্র। কলেজে আসা যাওয়া ছাড়া সে বড় একটা বাড়ির বাইরে থাকে না, বাড়ির সন্ধ্যা আরতি ও কীর্তনে প্রায়ই সে অংশগ্রহন করে।
একদিন মাধববাবু জি.পি.ও থেকে রাত এগারটায় বাড়ি ফিরে শোনেন, দুর্গাপ্রসাদ চাঁদপুরের এক বন্ধুর সাথে বিকেলের দিকে বেড়াতে বেরিয়েছে - এখন ও ফিরেনি, এমন কি আজকের সন্ধ্যা আরতির সময়ও তাকে দেখা যায় নি। বাড়ির সবাই খুবই চিন্তিত। সে কোথায়, কোথায় যেতে পারে, তাঁর খোঁজ করেও কাজের কাজ কিছুই হলো না।
বাধ্য হয়ে মজুমদার মশাই বিভিন্ন থানা, হাসপাতালে টেলিফোনে খোঁজ নেওয়া শুরু করে দিলেন। - খবর পাওয়া গেল মোটর গাড়ির চাপে আহত একটি ছেলেকে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে আনা হয়েছে - ছেলেটির নাম দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার। এক ডাক্তারের গাড়িতে ছেলেটি চাপা পড়েছে আর সেই ডাক্তারবাবু ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মাধববাবু ছুটে এলেন ভবানীপুর সাউথ সবার্বন (মেইন) স্কুলের মাষ্টার শ্রীযুক্ত অক্ষয় কুমার মজুমদারের বাড়িতে, তাঁকে নিয়েই চলে আসেন হাসপাতালে। - দেখেন হাতে পায়ে মাথায় ব্যানডেজ বাঁধা, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অযত্নে পড়ে আছে শ্রীমান। হাসপাতালে সেই সময়ের কর্ত্তব্যরত ডাক্তার, মোটর দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পরিচয় পেয়ে কিছুটা ভালো ব্যাবস্থা করে দিলেন।
কি ভাবে, কেউ জানেন না, খবরটা ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের কানেও পৌঁছোয়। পরদিন তিনি ঐ হাসপাতালে এসে দুর্গাপ্রসাদের জন্য কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল যে ডাক্তারের গাড়ীতে সে চাপা পড়েছিল, সেই ডাক্তার হচ্ছেন, আবার ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের ছাত্র। ঐ হাসপাতালেরই এক ডাক্তার। এই সব যোগাযোগের ফলে শ্রীমান দুর্গাপ্রসাদের জন্য দিন রাত্রির নার্স আর চিকিৎসার ভালো ব্যাবস্থা হলো। সকলের চেষ্টায়, মোটর দুর্ঘটনার চার দিন পর, তার জ্ঞান ফেরে কিন্তু সে কাউকে চিনতে পারে নি - ভুল বকে। ডাক্তারদের মতে মস্তিষ্কেই আঘাত সব চেয়ে বেশী। এদিকে রামঠাকুর তখন চট্টগ্রামে।
পুত্রের প্রাণভিক্ষা ও মঙ্গল কামনার কাতর আবেদন জানিয়ে মাধববাবু ঠাকুরকে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই চিঠির কোন উত্তর নেই। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল ... "শ্রীমানের জীবন সংশয়, অথবা প্রাণ রক্ষা পাইলেও পাগল হইয়া থাকিবে।"...তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় দুর্গাপ্রসাদ একটু ভালো হলে মাধববাবু তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন- অসুস্থ দুর্গাপ্রসাদকে রাখেন তিন তলার এক ঘরে।
-নির্জন দুপুরে দুর্গাপ্রসাদের মা দুর্গাপ্রসাদের ঘরের দরজায় বসে একমনে ঠাকুরের চিন্তা করছিলেন এমন সময় দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের অনুভব হলো কে যেন পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। পিছন ফিরে তিনি ঠাকুরকে দেখেই হতভম্ব। নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- "ঠাকুর মশায়! কোথা হইতে আসিলেন? একা একা কি করিয়া আসিলেন, এ বাড়ি তো আপনি চিনেন না, আর তো কোন দিন আসেন নাই।" ঠাকুরকে দেখে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন রোদে পুড়ে লাল হয়ে গিয়েছেন। ঠাকুর বলেছিলেন, 'স্মরণ করিয়াছেন তাই আসিয়াছি, স্মরণ করিলে বাড়ি চিনিবার প্রয়োজন হয় না, ঠিকানাই বাড়ি চিনাইয়া দেয়।" দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরকে সমস্ত ঘটনাই বলেন। "জানি", একথাটা বলেই ঠাকুর নীরব। শ্রীমানের মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে আশীর্ব্বাদ করে ঠাকুর বললেন "রাস্তায় হাটার সময় নাম করিতে পার না, তাহা হইলে তো আঘাত লাগিত না।' রামঠাকুর এবার ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ফিরে যাওয়ার জন্য।
মাধববাবুর স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর তাঁকে বললেন, গত রাতেই তিনি ১১ নং আর্ল স্ট্রিটে কুঞ্জবাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন। সেখানেই ফিরে যাবেন। "এখন আসি" এই বলেই ঠাকুর সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে লাগলেন, দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরের সাথে নীচে নেমে এলেন।
সে বাড়িতে একটাই মাত্র সদর দরজা। দরজায় বাড়ি ওয়ালার ২৫/২৬ বছরের ছেলেটি বসেছিল, বাড়িতে কেউ নেই - বাধ্য হয়ে ঐ ছেলেটিকেই ঠাকুরের জন্য টেক্সী ডেকে দেবার অনুরোধ করেন দুর্গাপ্রসাদের মা। এর মধ্যেই বাড়ির সদর দরজায় একটা টেক্সী এসে দাঁড়ায় -ঠাকুর তখনই উঠে বসলেন। টেক্সী ভাড়া বাবদ তিনি দুটো টাকা দিলেন ঠাকুরের হাতে। ঠাকুর টাকা দুটো ড্রাইভারের হাতে দিয়ে গাড়ী ছেড়ে দিতে বলেন। -গাড়ী চলে গেল। বাড়ি ওয়ালার ছেলেটি অনুসন্ধিৎসু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, "এই বৃদ্ধ কে? আপনার কে কি হয়, কখন আসিয়াছেন, আবার এখনই চলিয়া গেলেন কেন?" ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের উত্তর "ইনি আমার বাবা, আমার ছেলের অসুখ, আধঘন্টা আগে তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন, আবার এখন অন্যত্র চলিয়া গেলেন।" ছেলেটি অবাক হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে "ওঁকে-ত এই কয় দিনের মধ্যে আর দেখি নাই। আজও এক ঘন্টার অধিক সময় এই খানেই বসিয়া আছি ভিতরে যাওয়ার সময়ে তো দেখি নাই।" আপনার হয়তো সময়ের ভুল হইয়াছে।"
ইতিমধ্যে আর এক কান্ড - সেই টেক্সী ড্রাইভার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, "মা! আমি আপনার বুড়া বাবাকে হারাইয়া ফেলিয়াছি। তিনি গাড়িতে উঠিয়াই আমার হাতে দুইটি টাকা দিলেন। হাজরা মোড়ে একটা বড় দোকানের সামনে গাড়ি থামাইয়া দোকানে ঢুকিলেন। অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত তিনি না আসায় দোকানে যাইয়া বুড়া বাবার চেহারার বর্ণনা দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম তিনি কোথায়? তাহারা কিছুই বলিতে পারিল না। কেবল বলিল এমন লোক কেহ দোকানে আসে নাই।"
পরের ঘটনা শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদারের ভাষাতেই লিখেছি...."কুঞ্জ বাবুর বাড়িতে পর দিন প্রাতে যাইয়া ঠাকুরের বিষয় অনুসন্ধান করিলাম। তাঁহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ই জানালেন যে পর্যায়ক্রমে এই ঘরের দরজায় পাহারায় রত আছেন, কাহারও ঘরে যাইবার হুকুম নাই, তিনি গোপনে আছেন। তবে তিনি কাল ঐ সময় ঘরের বাহির হন নাই, ইহা নিশ্চিত। এই হেয়ালি আজও হেয়ালিই রহিয়া গিয়াছে।"...
মাধব বাবু আরও লিখেছেন..."এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করিবার উদ্দ্যেশ্য আমার আর কিছুই নহে ঠাকুর অনেক সময় কথাচ্ছলে বলিয়াছেন যে "যখনই কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছি, সেই সময়ে ভ্রমশূন্য হইয়া কাজ করিবেন।" এই বাক্যের সত্যতা প্রমানের নির্দ্দেশই হইল এই ঘটনা। অবশ্য এই বাক্য দৃঢ় ভাবে হৃদয়ে আঢ্য করিয়া রাখা আমাদের ন্যায় সাধারণ জীবের পক্ষে সহজ সাধ্য নহে। ....
"তাঁহার অশির্ব্বাদে আমার ছেলে সুস্থ হইয়া উঠিয়াছে এবং মস্তিষ্কেরও সুস্থতা ঘটিয়াছে।"... এই ঘটনার কিছুদিন পরেই মজুমদার মশাইকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

 

 

 

 

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 
 
 
নাম যখন পাইয়াছেন তখন যে অবস্থাই হউক না,
এই দেহ ত‌্যাগের পর নিত‌্যধামে স্থিতি হইবেই নিশ্চয়।
-বেদবানী- ২/৮৯
-শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

প্রাণ গোবিন্দ প্রাণ গোপাল—কেশবঃ মাধবঃ দীনঃদয়াল
দীনঃদয়ালু প্রভু দীনঃদয়াল পরমদয়ালু প্রভু পরমদয়াল
গুরুর নামোঃ বৈ কেবলম্ — গুরুই কৃপাহি্ কেবলম্।।।।
জয় রাম । সকল বন্ধু ও গুরু ভাই বোনদের জানাই.
শুভ সুপ্রভাত 🌺🌿
.... জয় রাম জয় গোবিন্দ।
গুরু কৃপাহি কেবলম্। 🌺🌿🙏🙏🙏
🧡🌿জয় রাম জয় গোবিন্দ!
গুরু কৃপাহি কেবলম্! 🌺🌿🙏

 

 

দেবতারা যাঁর সেবা করবার জন্য সতত উন্মুখ, সেই দেবসেব্য শ্রীশ্রী ঠাকুর ভক্তদের কিভাবে সেবা করেছেন- তাঁর মাধুর্যমন্ডিত লীলা দেখতে পাই 'শ্রুতিতে রামঠাকুর' গ্রন্থের ১ম খন্ডের ৫ম সংখ্যক কাহিনীতে। কলকাতার ঢাকুরিয়া নিবাসী পরম ভক্ত শ্রদ্ধেয় মতিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় সকালে বাজারে যাচ্ছেন। এমন সময় শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুকে আদেশ করলেন- বাজার থেকে যেন চিতলের পেটি ও বুক লাল কই মাছ আনা হয়। ঠাকুরের এই নির্দেশে মতিবাবু বিস্ময়ে হতবাক। ক্ষুধা-তৃষ্ণা রহিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের হঠাত মাছের কী বা প্রয়োজন? কিন্তু গুরুবাক্য শিরোধার্য করে উক্ত দ্রব্যাদি মতিবাবু বাজার থেকে আনলেন। ঠাকুর উত্ফুল্ল চিত্তে মতিবাবুর সহধর্মিনীকে মাছ রান্নার পদ্ধতি বিশদভাবে বুঝিয়ে দিলেন। দীর্ঘদিন পর হঠাত ঐ দিনই বেলা ১২ টার সময় ডাঃ জে.এম দাশগুপ্ত এসে হাজির মতিবাবুর বাড়িতে। ঠাকুর তাঁকে এখানেই দ্বিপ্রাহরিক আহার করতে বললেন। বাড়িতে খবর পাঠানোর জন্য ডাক্তারবাবু তাঁর ড্রাইভারকে পাঠালেন এবং ঠাকুরের নির্দেশ মতো ফেরার পথে দুই প্যাকেট সিগারেট আনতে বললেন। এদিকে ডাক্তারবাবু স্নানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুর সহধর্মিনীর কাছ থেকে তেল এনে ডাক্তারবাবুর মাথায় ঘষছেন। ঠাকুরের এই আচরণে ডাক্তারবাবু খুব অস্বস্তি বোধ করছেন। ভক্তবত্সল ঠাকুরের ভক্তসেবা এখানেই থেমে রইল না। ডাক্তারবাবুর স্নানের জন্য এক বালতি জল টিউবওয়েল পাম্প করে তুলে রেখেছেন। ডাক্তারবাবু তো মহাবিপদে পড়লেন। স্বয়ং ভগবানের আনা জলে ভক্ত স্নান করবেন-এটা কখনো সম্ভবপর? অবশেষে ডাক্তারবাবুর অনেক অনুরোধে ঠাকুরকে এ কাজ থেকে নিরস্ত করা গেল এবং ডাক্তারবাবুর স্নান সম্পন্ন হল।
কিছুক্ষণ পর ভক্তপ্রবর প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয় উপস্থিত হলে ঠাকুর তাঁকেও স্নান করিয়ে দুপুরে খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। ডাক্তারবাবু ঠাকুরকে নিবৃত্ত করে প্রভাতবাবুকে স্নান করিয়ে আনলেন। স্নান সমাপনান্তে দুই ভক্ত বসেছেন দ্বিপ্রাহরিক আহারে। ঠাকুর একটি মোড়ায় বসে তাদের আহারের তদারকি করছেন। ভক্তসেবার পরবর্তী নিদর্শন আরও চমকপ্রদ। ডাক্তারবাবুর ধূমপানের নেশা না থাকলেও, প্রভাতবাবুর ধূমপান করার অভ্যাস ছিল। তাই প্রভাতবাবু অনতিদূরে একটি গাছতলায় বসে বেশ আয়েশ করে সিগারেটে সুখটান দেবার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখেন যে তাঁর পকেটে সিগারেট নেই। সেই সময় ডাক্তারবাবু দু'প্যাকেট সিগারেট এনে প্রভাতবাবুর হাতে দিয়ে বললেন- এই ধূমপানের ব্যবস্থা ঠাকুর স্বয়ং করেছেন। ভক্তসেবা এখানেই শেষ নয়। দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রামের জন্য ঠাকুর নিজ হাতে অনেক যত্ন করে শয্যার ব্যবস্থা করেছেন। মা যেমন তাঁর সন্তানের প্রতি অপত্য স্নেহ ভালবাসায় তার সেবা করেন শ্রীশ্রী ঠাকুরের সেই প্রকার মাতৃবত আচরণে ভক্তদের নয়ন অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠল।

 

 

 

শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏
শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏

 

আমার স্নেহময়ী জননী ময়মনসিংহে ঠাকুরের দর্শন লাভ হলে ঠাকুরকে অনুরোধ করলেন ----কলকাতায় গেলে তিনি যেন ছেলেকে দর্শন দিয়ে কৃপা করেন।  তখন অবশ্য আমাদের সমস্ত পরিবারই রাম ঠাকুরের ভক্ত। ভক্ত বৎসল ঠাকুর সত্য সত্যই কলকাতায় এসে আমার হোস্টেলের ঘরে উপস্থিত। আমি তাঁকে চেয়ারে বসতে দিয়ে, দোকান থেকে দু পয়সার দই নিয়ে এসে ভোগ দিলাম। তিনি আঙুলে করে সামান্য একটু গ্রহণ করে প্রসাদ করে দিলেন। আমি নিজে গ্রহন করে বন্ধুদের মধ্যেও ঠাকুরের প্রসাদ বিতরণ করলাম।
জয় রাম 🌺🌿
"কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর " ----মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়

  আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল । শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম । : - - রোহিণী কুমার মজুমদার । জয় রাম ...