ছবিটি কাজাকিস্তানের। একসময় এখানে ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছিল বিশাল এক হ্রদ, নাম আরাল সাগর। বিশালতার কারণেই এটি পরিচিত ছিল সাগর হিসেবে। সময়ের বিবর্তনে সেই হ্রদ শুকিয়ে গিয়ে এখন সেটা ধু ধু মরুভূমি!
যারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আত্মবিশ্বাসী এবং সেটাকে অহংকারের পর্যায়ে নিয়ে যায় তাদের জন্য ছবিটি প্রতীকী।
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ।
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
১৯৪২ সালের গোড়ার দিকে একটানা চার ছয় মাস ধরে
ঠাকুর আমাদের বাড়ীতেই আছেন ।
তখন দেখতাম প্রায় সর্ব্বদা তিনি একটি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা খুলে সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করতেন ।
আর মাঝে মাঝেই বলতেন ,
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ,
আপনারা সকলে সত্যনারায়ণের সেবা করেন ।
ঠাকুরের এই কথা সত্ত্বেও তখন কেউই সত্যনারায়ণে
মন দিত না ।
তবে শুনেছি আশ্রিতদের মধ্যে দুই এক জন ১৯৪২ সালের পূর্বেরও ঠাকুরের মুখে সত্যনারায়ণের সেবা র কথা শুনেছেন এবং ঠাকুরের সত্যনারায়ণের পূজা করেছেন ।
ক্রমে সত্যনারায়ণের সেবা র প্রচলন ভক্ত মহলে বহুল হয়
এবং সত্যনারায়ণ যে ঠাকুরের অংশ সে সম্বন্ধে আর কারোরই কোন সংশয় থাকলো না ।
যখন কয়েক বৎসর পরে ঠাকুর নিজ হস্তে আমার স্বামীকে (কুঞ্জলাল মজুমদারকে) নোয়াখালী , চৌমুহনি থেকে
পাঁচ টাকা পাঠিয়ে লিখেছিলেন ,
" কুঞ্জবাবুর জন্য ।
দয়া করিয়া এই তোমার সিন্নির পাঁচ টাকা গ্রহণ করিবা ,
ইতি দয়াময় সত্যনারায়ণ " ।
যাই হোক , দেখতাম ঠাকুর সময় পেলেই সত্যনারায়ণের
পাঁচালী পাঠ করতেন ।
একদিন এমনই হইল ,
বেলা এগারটায় ভোগ সাজানো হয়ে গেছে ।
আসন পাতা , ঠাকুর পাঁচালী পাঠে মগ্ন ,
বেলা বারোটার পর তার পাঠ শেষ হলো ।
তখন তিনি নেমে এসে ভোগের সামনের আসনে বসলেন ।
এই রকম মানোনিবেশ করে কোন বই পড়তে আমরা তো কখনও দেখিনি ,
শুনিও নি কারোর কাছে যে ঠাকুর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনও বই , তাও আবার সশব্দে,
কোনও দিন পড়েছেন তাঁর লীলা বিচিত্র ।
এর কারণ আমরা কি বা বুঝবো।
জয় রাম জয় গোবিন্দ
শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার ।
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮ হইতে ।
জয় গুরু সত্য নারায়ণ। জয় শ্রী রাম ঠাকুর।।
আমি আপনেগ ছাড়মু না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখতে পাই ।
তবুও কোন ভয় নাই ।
জয় গুরু জয় রাম ।
সুপ্রভাত শুভেচ্ছা ।
কৈবল্যনাথ কে?
শ্রীশ্রী রামঠাকুর স্বয়ং কৈবল্যনাথ অর্থাৎ জগন্নাথ ।
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের শ্রীপটে আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রী ঠাকুর চাদর গায়ে আছেন ।
ভালো করে লক্ষ করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে কৈবল্যনাথ জিউর কোন হাত নেই ।
তাই তিনি স্বয়ং জগন্নাথ ।
আর কৈবল্য কথার অর্থ মুক্তি ও কৈবল্যনাথ কথার অর্থ মুক্তিদাতা ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরই স্বয়ং মুক্তিদাতা ।
একটা কথা ভাবতে অবাক লাগছে যে আজকাল অনেক চিঠিতে লেখা হচ্ছে কৈবল্যনাথের মোহন্ত মহারাজ ।
অথচ আগে লেখা হতো কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ । কৈবল্যনাথ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ ।
তাই কৈবল্যনাথের মোহন্ত কখনও হওয়া উচিৎ নয় ,
কেননা ভগবানের মোহন্ত কথার কোন প্রশ্নই উঠে না ।
ভগবান সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মালিক ।
তাই কৈবল্যধামের মোহন্ত লেখাই বাঞ্ছনীয় ।
আমি মূর্খ ,
তবুও আমার ভিতরের উপলব্ধি থেকে কথাটা ব্যক্ত করলাম । তাই আমি ক্ষমা প্রার্থী ।
যাক আমরা পরম সৌভাগ্যবান যে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের আশ্রয় লাভ করেছি ।
কিন্তু আমরা বুঝিলাম না তাঁকে ।
অথচ এরকম পরম করুণাময় , দয়াময় ও আশ্রিতজনের /আশ্রিতাজনের সকল সন্তাপ হরণকারী ভগবানকে এখনও কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
কত দয়াল তিনি ।
কেননা তিনি আমাদের সকলকে সর্বদা অভয় প্রদান করেছেন এবং বলেছেন,
" আপনারা আমারে ছাড়লে কি হইব ,
আমি আপনাগো ছাড়ুম না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখিতে পাই ,
তবুও কোন ভয় নাই ,
আমি সর্বদা আপনাদের কাছেই আছি।
কেবল অনন্য লক্ষ রাইখ্যা নাম কইরা যান ।
আমি আপনাগো সময়ে উদ্ধার করুম ।"
তাই আসুন আমরা সবাই শ্রীশ্রী রামঠাকুরের উপদেশ বাণী শিরোধার্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করি এবং একমাত্র
শ্রীগুরু প্রদত্ত " শ্রীনামকে " আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলবো ।
তবেই হবে আমাদের জীবনের সার্থকতা , নচেৎ নয় ।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও আন্তরিক প্রাণের ভালবাসা জানাই ।
জয় রাম ।
শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে (২৯)
ঠাকুরের সহিত ঘাটের সিড়িঁতে নামিতে নামিতে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "ঐ সাধু আপনাকে কেন বাচ্চা বলিলেন, সাধুর বয়স কত হইবে?" ঠাকুর বলিলেন, "ঐ সাধুর বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশী, প্রায় তিন শত বৎসর।"........ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "কি করিয়া সাধুরা ঐ দীর্ঘ তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন?" উত্তরে ঠাকুর বলিলেন, "এই সাধুরা তিন-চারবার তাঁহাদের ইচ্ছামত দেহ পরিবর্ত্তন করেন।" আমাদের বুঝাইবার জন্য তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার বিবরণ দিয়াছিলেন। ___
একবার ঠাকুর একটি নদীর ধার দিয়া যাইতেছিলেন। নদীটি খুব প্রশস্ত নয়। ৪০/৫০ গজ চওড়া হইবে। নদীর এক পার হইতে অন্য পারের গাছপালা মানুষজন সবই পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়। ঠাকুর দেখিলেন নদীর পার দিয়া একজন বৃদ্ধ কমণ্ডলু হস্তে যাইতেছে। সাধু জলের দিকে এমন ভাবে তাকাইয়া যাইতেছেন যে, দেখিয়া মনে হইল তিনি নদীতে কিছু অনুসন্ধান করিতেছেন। কিছুদূর যাইতে না যাইতেই ঠাকুর দেখিলেন নদীর যেদিকে ঠাকুর যাইতেছেন ঠিক তাহার বিপরীত দিক হইতে একটি শব ভাসিয়া আসিতেছে। সাধু তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপাইয়া পড়িলেন এবং সাঁতার কাটিয়া ঐ শবটিকে তীরে উঠাইলেন। শবটি একটি ত্রিশ-বত্রিশ বৎসরের যুবকের। সাধু বেশ পরিষ্কার করিয়া ঐ শবটি মুছিলেন। নিজের ঝুলি হইতে তৈল বাহির করিয়া উহার সর্বাঙ্গে মাখাইলেন। পরে নদীতে নামিয়া নিজে অবগাহন করিলেন ও এক কমণ্ডলু জল লইয়া উপরে উঠিলেন। ঐ জলে স্নান করাইয়া শবদেহটির কপালে সিঁদুরের ফোঁটা দিলেন। শবটিকে চিৎ করিয়া শোয়াইয়া কিয়ৎক্ষণ পূজা করিলেন। এই পূজার পরে সাধু উহার উপরে উপুড় হইয়া শুইলেন। তিনি উহার হাতের সহিত হাত, পায়ের সহিত পা এবং শরীরের সহিত শরীর মিলাইয়া পড়িয়া রহিলেন। প্রায় আধ ঘন্টা পরে নিম্নের শবটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠিল এবং সাধুর শরীর একটি নিষ্প্রাণ শবে পরিনত হইল। নবজন্ম প্রাপ্ত নিচের মানুষটি তখন বুকের উপর হইতে সাধুর নিষ্প্রাণ দেহটি ফেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন এবং সাধুর দেহ টিকে নদীতে ভাসাইয়া দিয়া নিজের গন্তব্যপথে চলিয়া গেলেন। এই সাধুরা বার্দ্ধক্যে দেহ অকর্ম্মণ্য হইলে দেহ পরিবর্ত্তন করিয়া দুই-তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন।
জয় রাম 

"শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর "- শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার।
No comments:
Post a Comment