Saturday, 8 November 2025

 

আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম ।
: - - রোহিণী কুমার মজুমদার ।
জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
শুভ সকাল ।
একদিন সন্ধ্যার পর একাকী বেড়াইয়া বাড়ি ফিরিতেছিলাম ,
এমন সময় দেখি শ্রীঠাকুর আমাদের বাড়ির নিকট একটি
মিষ্টির দোকানে প্রবেশ করিলেন ।
আমি দোকান হইতে একটু দূরে দাঁড়াইয়া দেখিলাম ঠাকুর
এক হাঁড়ি রাবড়ি হাতে লইয়া বাহির হইয়া বাড়ির দিকে
রওয়ানা হইলেন ।
রাস্তায় চলার সময় শ্রীঠাকুর কখনও পিছন ফিরিয়া
তাকাইতেন না ।
সুবিধা বুঝিয়া আমি ঠাকুরের পিছন পিছন চলিলাম ।
দেখিলাম শ্রীঠাকুর চলিতে চলিতে বাড়ির দরজা অতিক্রম করিয়া গেলেন ।
কয়েকখানি বাড়ির পরে একটি পুকুরের ধারে একটি
আঁস্তাকুড় ছিল ।
সেখানে ভাঙ্গা হাঁড়ি , ছেঁড়া মাদুর , ছেঁড়া বালিশ ও নানা
রকমের আবর্জনা ফেলা হইত ।
স্থানটি নানারকমের জঙ্গলা গাছে ভর্তি ।
সেই আঁস্তাকুড়ে রাবড়ির হাঁড়িটি রাখিয়া শ্রীঠাকুর বাড়ির
দিকে রওনা হইলেন ।
ঠাকুরকে বাড়িতে ফিরিতে দেখিয়াই আমি একরকম
দৌড়াইয়া ই বাড়ি ফিরিয়া আসিলাম ।
বাড়ি ফিরিয়া ঠাকুর হাত-মুখ ধুইয়া নিজের বিছানায়
গিয়া বসিলেন ।
আমি ভয়ে ভয়ে ঠাকুরের কাছে আসিয়া বসিলাম ।
তাহার পায়ে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলাম ,
ঠাকুর , আজ বড় অন্যায় কাজ করিয়াছি ।
আপনি প্রায়ই রাবড়ি আনেন অথচ খান না ।
আজ তাই রাবড়ির হাঁড়িটি হাতে করিয়া দোকান হইতে বাহির হইলেন দেখিয়া আমি আপনার পিছন পিছন গিয়াছিলাম ।
দেখিলাম , আপনি রাবড়ির হাঁড়িটি একটা আঁস্তাকুড়ের
ভিতরে রাখিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসিলেন ।
আপনাকে ফিরতে দেখিয়া আমি দৌড়াইয়া আপনার পূর্বেই বাড়ি আসিয়াছি ।
শ্রীঠাকুর বললেন , দেখেন না ,
ঐ আত্মাটি (যেটি আমাদের বাড়িতে আছে ) আমারে সারা
রাত্রি ধরিয়া ঘুমাইতে দেয় না ।
সমস্ত রাত্রি ধরিয়া আমার নিকট রাবড়ি চায় ।
ঐ আত্মাটির এত অনুরোধ সহ্য করিতে না পারিয়া আজ তাহাকে রাবড়ি খাওয়াইয়া আসিলাম ।
দোকান হইতে রাবড়ি বাকিতে আনিয়াছি ।
আগামীকাল আপনি ঐ দোকানে দুই টাকা চার আনা
দিয়া আসিবেন ।
রাবড়ি ঐ আত্মাটি সত্যসত্যই খাইয়াছে কিনা এবং কেমন করিয়া খাইল জিজ্ঞাসা করিলে শ্রীঠাকুর বলিলেন ,
রাবড়ির হাঁড়িটি রাখিবার মাত্র একটি কালো ছায়া ঐ হাঁড়ির উপর আসিয়া পড়িল ,
একটা চপ চপ মতন শব্দ শুনিতে পাইলাম ।
আপনি নিজেই গিয়া রাবড়িপূর্ণ হাঁড়িটি কি অবস্থায় রহিয়াছে দেখিয়া আসেন ।
আমি তখনই একটি জলন্ত হারিকেন হাতে করিয়া সেই আঁস্তাকুড়ে গিয়া দেখিলাম রাবড়িপূর্ণ হাঁড়িটি একেবারেই
খালি পড়িয়াছে ।
বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া শ্রীঠাকুরকে বললাম ,
আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম ।
শ্রীঠাকুর আমার গায়ে ও মাথায় হাত বুলাইয়া দিলেন ।
" জয়রাম "
রোহিনী কুমার মজুমদার
" শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর ॥"
পৃষ্টা সংখ্যা ৩১ হইতে ।

 

,🙏🌹নামই হইল গুরুমূর্তি🌹🙏
প্রশ্ন- নামের প্রকাশ কি?
উত্তর - নিরাকার,অব্যক্ত,অরূপ নাম স্বয়ং অহৈতুকি দয়া পরবশে জীব-কল্যাণে নামময়, রূপময় অপ্রাকৃত দেহ ধারণ কইরা ব্যক্ত হওয়ারে নামের প্রকাশ বলে। এই দেহের উৎপত্তি নামে, নিষ্পত্তি নামে। যেমন জল আর বরফ। বরফের উৎপত্তি জলে, পুনরায় নিষ্পত্তিও জলে। সেইরকম নামময় দেহ ও দেহী, নামী এক ও অভিন্ন। নামী বলে প্রাণের, আত্মারে। প্রাকৃত দেহধারী জীবের দেহ ও দেহী ভিন্ন। যেহেতু দেহ পঞ্চভৌতিক দেহ।
প্রশ্ন -নামের প্রকাশ কি এবার বুঝতে পেরেছি। স্ত্রোত্রে পেয়েছি ধ্যানমূলম্ গুরুমূর্তি। তা হলে ধ্যান করব গুরুমূর্তি। নয় কি?
উত্তর - গুরু বলতে নামী গুরু। অতএব নাম হইল গুরুমূর্তি। ধ্যান বলে চিন্তারে। নাম চিন্তায় গভীরভাবে নিমগ্ন থাকারে ধ্যান বলে। নাম চিন্তায় করলেই গুরু মূর্তির চিন্তা করা হয়। পৃথকভাবে গুরুমূর্তির চিন্তা করতে হয় না।
(ফণিন্দ্র কুমার মালাকার রচিত
রাম ভাই ষ্মরনে পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭০)
🙏🌹 জয়রাম জয়গোবিন্দ 🌹🙏

 

জয়রাম 🙏 জয়গোবিন্দ
শ্রীশ্রীঠাকুরের অমৃত বাণী -
নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধ মনের সঙ্গে হয় না, প্রাণের সঙ্গে গাঁথা থাকে বলিয়া নাম লয়। মনের দ্বারা সুখ দুঃখ ভোগ হয়, মনের সঙ্গকে ভাগ্য, অদৃষ্ট বলিয়া তত্ত্বদর্শিগণ নির্ণয় করিয়াছেন।
"মনঃ করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈঃ"
অতএব নাম লইয়া পরিয়া থাকাই কর্ম্ম, নাম ধরিয়া রাখাই ধর্ম্ম, মনের দ্বারা যে সকল কার্য্য হয়
(তাহা) কল্প ক্ষয়শীল।
" নাম তিন্তামণিঃ কৃষ্ণশ্চৈতন্য রসবিগ্রহঃ।
নিত্যশুদ্ধো নিত্যমুক্তোহভিন্নাত্মা নাম নামিনোঃ।।"
....... নামের কোন শব্দ অর্থ নাই, নাম সত্য, নিত্য, তাহার কীর্ত্তনই আনন্দ। এইজন্য লোকে সত্যনারায়ণ বলে।
বেদবানী - ৩/১৩.

  আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল । শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম । : - - রোহিণী কুমার মজুমদার । জয় রাম ...