Monday, 7 April 2025
Sunday, 6 April 2025
আমার স্নেহময়ী জননী ময়মনসিংহে ঠাকুরের দর্শন লাভ হলে ঠাকুরকে অনুরোধ করলেন ----কলকাতায় গেলে তিনি যেন ছেলেকে দর্শন দিয়ে কৃপা করেন। তখন অবশ্য আমাদের সমস্ত পরিবারই রাম ঠাকুরের ভক্ত। ভক্ত বৎসল ঠাকুর সত্য সত্যই কলকাতায় এসে আমার হোস্টেলের ঘরে উপস্থিত। আমি তাঁকে চেয়ারে বসতে দিয়ে, দোকান থেকে দু পয়সার দই নিয়ে এসে ভোগ দিলাম। তিনি আঙুলে করে সামান্য একটু গ্রহণ করে প্রসাদ করে দিলেন। আমি নিজে গ্রহন করে বন্ধুদের মধ্যেও ঠাকুরের প্রসাদ বিতরণ করলাম।
জয় রাম 🌺🌿
"কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর " ----মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়
Saturday, 5 April 2025
🌿🌺🌸🌼পাপমোচনী একাদশী🕉️🪷🛕
যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে জনার্দন! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। একাদশী সকল সুখের আধার, সিদ্ধি প্রদানকারী ও পরম মঙ্গলময়।
সমস্ত পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথি ‘পাপমোচনী’ নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিচিত্র উপাখ্যানটি আপনার কাছে বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করুন।
প্রাচীনকালে অতি মনোরম ‘চৈত্ররথ’ পুষ্প উদ্যানে মুনিগণ বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন। একসময় মেধাবী নামে এক ঋষিকুমার সেখানে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অস্পরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইল দূরে অবস্থান করতে লাগল।
বীণা বাজিয়ে মধুর স্বরে সে গান করত। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে। এদিকে ঋষি মেধাবীও অস্পরার অনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তখন সেই অস্পরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত করে।
ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে বিস্মৃত হন। এইভাবে অস্পরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হল।
মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অস্পরা দেবলোকে ফিরে যেতে মনস্থ করল। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধামী মুনিকে বলতে লাগল- হে প্রভু, এখন আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধামী বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছে, প্রাতঃকাল পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। মুনির কথা শুনে অভিশাপ ভয়ে সেই অস্পরা আরও কয়েক বছর তার সাথে বাস করল।
এইভাবে বহুবছর (৫৫ বছর ৯ মাস ৭ দিন) অতিবাহিত হল। দীর্ঘকাল অস্পরার সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল। মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজস্থানে গমনের প্রার্থনা জানালে মুনি বললেন- এখন প্রাতঃকাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।
মুনির কথা শুনে ঈষৎ হেসে মঞ্জুঘোষা তাকে বলল- হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার যে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করে দেখুন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
মুনি তখন মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন- রে পাপীষ্ঠে, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারিনী, তোমাকে ধিক্! তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর শাপে অস্পরার শরীর বিরূপ প্রাপ্ত হল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করল।
মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে পিতা! এক অস্পরার সঙ্গদোষে আমি মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তা কৃপা করে আমায় বলুন।
উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন- চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে। পিতার উপদেশ শুনে মেধাবী সেই ব্রত ভক্তিভরে পালন করল।
তার সমস্ত পাপ দূর হল। পুণরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের ফলে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করল।
হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।
"আমি-ই সেই রামঠাকুর" – অহংকারী পণ্ডিতের পতন ও বিশ্বরূপ দর্শন | অলৌকিক ঘটনা | ছন্নাবতার রামঠাকুর
"আমি-ই সেই রামঠাকুর" – অহংকারী পণ্ডিতের পতন ও বিশ্বরূপ দর্শন | অলৌকিক ঘটনা | ছন্নাবতার রামঠাকুর
🎞️ ভিডিও ইন্ট্রো (Intro Script):
🎵 (ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃদু ভক্তিমূলক সঙ্গীত)
🔊 নির্মল কণ্ঠে ভয়েসওভার:
"পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের কারণ,
সত্যনারায়ণ – আমি-ই সেই রামঠাকুর।
আজকের এই ভিডিওতে শুনুন এক অলৌকিক সত্য ঘটনা—
যেখানে এক অহংকারী পণ্ডিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের অলৌকিক রূপ দর্শনে কাঁপতে কাঁপতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন।
এমন অভিজ্ঞতা, যা বদলে দিয়েছিল তাঁর সমস্ত অহংকার।
চলুন শুনি সেই ইতিহাসের পাতায় লেখা এক বিরল সাক্ষাৎ!"
📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Story Script):
📜 গ্রন্থ: “ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর” থেকে (পৃষ্ঠা ২০৬)
📍 স্থান: ভৈরব রেল আবাসন, পূর্ববঙ্গ | সময়: ১৯৩০-এর দশকের শুরু
🎙️ (ভয়েসওভার শুরু):
তিরিশ দশকের প্রারম্ভে, শ্রীশ্রী রামঠাকুর সদানন্দকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছালেন পূর্ববঙ্গের ভৈরব রেল আবাসনে।
সেখানে ললিত রায় মহাশয়ের গৃহে তিনি শুভবিজয় করিলেন।
প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় ভক্তকুল ঠাকুরের অমৃতবাণী শুনে পরমানন্দ লাভ করিত।
হঠাৎ একদিন, এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ পণ্ডিত – যিনি গর্বিত ছিলেন নিজের জ্ঞানে – উচ্চকণ্ঠে বলিলেন,
"কৈ গো তোমাদের রাম ঠাকুর? তিনি নাকি ভগবান? তানরে একবার দেইখা যাই!"
এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বাক্য শুনে সকলে হতচকিত।
শ্রীশ্রী ঠাকুর তখন ভক্ত পরিবেষ্টিত অবস্থায় বসে ছিলেন।
তিনি শান্তভাবে বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইলেন সেই পণ্ডিতের সামনে।
🔊 ঠাকুর বলিলেন:
"পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কারণ, সত্যনারায়ণ, আমি-ই সেই রাম ঠাকুর।"
এই বাক্য শোনামাত্র পণ্ডিত প্রবর থর থর করে কাঁপতে লাগলেন এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ভূপতিত হলেন।
তাঁকে ঘরের ভিতরে এনে শুইয়ে দিলেন ভক্তরা। কিছুক্ষণ পরে যখন চেতনা ফিরল, তিনি হাঁটু গেড়ে ঠাকুরের সামনে বসে পড়লেন।
অশ্রু নয়নে কম্পিত কণ্ঠে গীতার একাদশ অধ্যায় আবৃত্তি করতে লাগলেন – যেখানে বর্ণিত ভগবানের বিশ্বরূপ।
🔊 সদানন্দ বলিলেন:
"তিনি আবৃত্তির সময় মুহুর্মুহু কাঁপিয়া উঠিতেছিলেন, যেন বিশ্বরূপের প্রতিচ্ছবি তাঁহার চক্ষে ধরা পড়িতেছে।"
🔊 শেষে ঠাকুর বলিলেন:
"ওনারে একটু গরম দুধ খাইয়ে বাড়ি পৌঁছাইয়া দাও। বিশ্রাম করলেই ঠিক হইবে।"
এভাবেই অলৌকিক এক ঘটনায় পণ্ডিতের অহংকার গলিয়া গিয়েছিল ঠাকুরের করুণ দৃষ্টিতে।
🔚 এন্ডিং স্ক্রিপ্ট (Outro):
📿 ভয়েসওভার (সুমিষ্ট সুরে):
"ঠাকুর কখনো রাগ করেন না, তিনি শুধুই ভালোবাসেন।
তাঁর অলৌকিকতা শুধুই দর্শনে নয়, হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
এই ঘটনা আমাদের শিখায়—জ্ঞানে নয়, ভক্তিতে আসে মুক্তি।
জয় শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
জয় রাম।
জয় গোবিন্দ।"
🎬 [ভিডিও শেষ হোক এই লেখায়]
“ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর" – পৃষ্ঠা: ২০৬
📘 সংকলক: শ্রী সদানন্দ চক্রবর্ত্তী
আপনি চাইলে এর উপর ভিত্তি করে একটি ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, স্লাইড ডিজাইন বা ভয়েসওভার রেকর্ড স্ক্রিপ্ট-ও করে দিতে পারি।
এই ভিডিও আপনি কোন চ্যানেলে আপলোড করবেন? আমি সেই অনুযায়ী স্ক্রিপ্টে চ্যানেল নাম বা লোগো যুক্ত করতেও সাহায্য করতে পারি। 🙏🎥
আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল । শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম । : - - রোহিণী কুমার মজুমদার । জয় রাম ...
-
মনসাপূজার প্রচলন কিভাবে? আদ্যাশক্তি মহামায়ার অনন্ত তাঁর রূপ, অনন্ত তাঁর বৈচিত্র্য, অনন্ত তাঁর বৈভব। তাঁর কোন নিদিষ্ট মূর্তি নেই। সাধকের কল...
-
জয়রাম জয়গোবিন্দ শ্রীশ্রীঠাকুরের অমৃত বাণী - নাম লয় শব্দের অর্থ ফেলে না। নামের সম্বন্ধ মনের সঙ্গে হয় না, প্রাণের সঙ্গে গাঁথা...
-
গুরু কে?" ১৪। গুরু পরমাত্মা,জীব ও প্রকৃতি এই তিনটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত, পরম ব্রহ্ম জ্ঞানে জ্ঞানী হন গুরু,দায়িত্ব নিয়ে করেন উদ্ধার। ...