Monday, 7 April 2025

 

ছবিটি কাজাকিস্তানের। একসময় এখানে ৬০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছিল বিশাল এক হ্রদ, নাম আরাল সাগর। বিশালতার কারণেই এটি পরিচিত ছিল সাগর হিসেবে। সময়ের বিবর্তনে সেই হ্রদ শুকিয়ে গিয়ে এখন সেটা ধু ধু মরুভূমি!
যারা নিজেদের অবস্থান নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের আত্মবিশ্বাসী এবং সেটাকে অহংকারের পর্যায়ে নিয়ে যায় তাদের জন্য ছবিটি প্রতীকী।
সময় যখন বদলায় সাগরও শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়। সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা অর্থ-সম্পদ, রূপ-গুণ বা ক্ষমতার দম্ভে সবাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টায় মেতে ওঠে। এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে সবারই সময় ফুরিয়ে আসবে একদিন! তাই মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারের বিকল্প নেই।
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ।
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
জয় গুরু <> জয় রাম <>
জয় গোবিন্দ * * * * * * *
~
১৯৪২ সালের গোড়ার দিকে একটানা চার ছয় মাস ধরে
ঠাকুর আমাদের বাড়ীতেই আছেন ।
তখন দেখতাম প্রায় সর্ব্বদা তিনি একটি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা খুলে সত্যনারায়ণের পাঁচালী পাঠ করতেন ।
আর মাঝে মাঝেই বলতেন ,
কলিকালে , সত্যনারায়ণ জাগ্রত ।
সত্যনারায়ণের সেবা ছাড়া জীবের মুক্তি নাই ,
আপনারা সকলে সত্যনারায়ণের সেবা করেন ।
ঠাকুরের এই কথা সত্ত্বেও তখন কেউই সত্যনারায়ণে
মন দিত না ।
তবে শুনেছি আশ্রিতদের মধ্যে দুই এক জন ১৯৪২ সালের পূর্বেরও ঠাকুরের মুখে সত্যনারায়ণের সেবা র কথা শুনেছেন এবং ঠাকুরের সত্যনারায়ণের পূজা করেছেন ।
ক্রমে সত্যনারায়ণের সেবা র প্রচলন ভক্ত মহলে বহুল হয়
এবং সত্যনারায়ণ যে ঠাকুরের অংশ সে সম্বন্ধে আর কারোরই কোন সংশয় থাকলো না ।
যখন কয়েক বৎসর পরে ঠাকুর নিজ হস্তে আমার স্বামীকে (কুঞ্জলাল মজুমদারকে) নোয়াখালী , চৌমুহনি থেকে
পাঁচ টাকা পাঠিয়ে লিখেছিলেন ,
" কুঞ্জবাবুর জন্য ।
দয়া করিয়া এই তোমার সিন্নির পাঁচ টাকা গ্রহণ করিবা ,
ইতি দয়াময় সত্যনারায়ণ " ।
যাই হোক , দেখতাম ঠাকুর সময় পেলেই সত্যনারায়ণের
পাঁচালী পাঠ করতেন ।
একদিন এমনই হইল ,
বেলা এগারটায় ভোগ সাজানো হয়ে গেছে ।
আসন পাতা , ঠাকুর পাঁচালী পাঠে মগ্ন ,
বেলা বারোটার পর তার পাঠ শেষ হলো ।
তখন তিনি নেমে এসে ভোগের সামনের আসনে বসলেন ।
এই রকম মানোনিবেশ করে কোন বই পড়তে আমরা তো কখনও দেখিনি ,
শুনিও নি কারোর কাছে যে ঠাকুর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনও বই , তাও আবার সশব্দে,
কোনও দিন পড়েছেন তাঁর লীলা বিচিত্র ।
এর কারণ আমরা কি বা বুঝবো।
জয় রাম জয় গোবিন্দ
শ্রীমতী কিরণবালা মজুমদার ।
ঘরের ঠাকুর শ্রী রামচন্দ্র ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮ হইতে ।
জয় গুরু সত্য নারায়ণ। জয় শ্রী রাম ঠাকুর।।

আমি আপনেগ ছাড়মু না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখতে পাই ।
তবুও কোন ভয় নাই ।
: - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
জয় গুরু জয় রাম ।
সুপ্রভাত শুভেচ্ছা ।
কৈবল্যনাথ কে?
শ্রীশ্রী রামঠাকুর স্বয়ং কৈবল্যনাথ অর্থাৎ জগন্নাথ ।
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথের শ্রীপটে আমরা দেখতে পাই শ্রীশ্রী ঠাকুর চাদর গায়ে আছেন ।
ভালো করে লক্ষ করলেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে কৈবল্যনাথ জিউর কোন হাত নেই ।
তাই তিনি স্বয়ং জগন্নাথ ।
আর কৈবল্য কথার অর্থ মুক্তি ও কৈবল্যনাথ কথার অর্থ মুক্তিদাতা ।
শ্রীশ্রী ঠাকুরই স্বয়ং মুক্তিদাতা ।
একটা কথা ভাবতে অবাক লাগছে যে আজকাল অনেক চিঠিতে লেখা হচ্ছে কৈবল্যনাথের মোহন্ত মহারাজ ।
অথচ আগে লেখা হতো কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ । কৈবল্যনাথ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান জগন্নাথ ।
তাই কৈবল্যনাথের মোহন্ত কখনও হওয়া উচিৎ নয় ,
কেননা ভগবানের মোহন্ত কথার কোন প্রশ্নই উঠে না ।
ভগবান সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মালিক ।
তাই কৈবল্যধামের মোহন্ত লেখাই বাঞ্ছনীয় ।
আমি মূর্খ ,
তবুও আমার ভিতরের উপলব্ধি থেকে কথাটা ব্যক্ত করলাম । তাই আমি ক্ষমা প্রার্থী ।
যাক আমরা পরম সৌভাগ্যবান যে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের আশ্রয় লাভ করেছি ।
কিন্তু আমরা বুঝিলাম না তাঁকে ।
অথচ এরকম পরম করুণাময় , দয়াময় ও আশ্রিতজনের /আশ্রিতাজনের সকল সন্তাপ হরণকারী ভগবানকে এখনও কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
কত দয়াল তিনি ।
কেননা তিনি আমাদের সকলকে সর্বদা অভয় প্রদান করেছেন এবং বলেছেন,
" আপনারা আমারে ছাড়লে কি হইব ,
আমি আপনাগো ছাড়ুম না ।
আপনারা কে কি করতাছেন ,
সবই আমি দর্পণের মত দেখিতে পাই ,
তবুও কোন ভয় নাই ,
আমি সর্বদা আপনাদের কাছেই আছি।
কেবল অনন্য লক্ষ রাইখ্যা নাম কইরা যান ।
আমি আপনাগো সময়ে উদ্ধার করুম ।"
তাই আসুন আমরা সবাই শ্রীশ্রী রামঠাকুরের উপদেশ বাণী শিরোধার্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে পালন করি এবং একমাত্র
শ্রীগুরু প্রদত্ত " শ্রীনামকে " আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলবো ।
তবেই হবে আমাদের জীবনের সার্থকতা , নচেৎ নয় ।
সকলকে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও আন্তরিক প্রাণের ভালবাসা জানাই ।
জয় রাম ।

শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনী অবলম্বনে (২৯)🌹
ঠাকুরের সহিত ঘাটের সিড়িঁতে নামিতে নামিতে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "ঐ সাধু আপনাকে কেন বাচ্চা বলিলেন, সাধুর বয়স কত হইবে?" ঠাকুর বলিলেন, "ঐ সাধুর বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশী, প্রায় তিন শত বৎসর।"........ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, "কি করিয়া সাধুরা ঐ দীর্ঘ তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন?" উত্তরে ঠাকুর বলিলেন, "এই সাধুরা তিন-চারবার তাঁহাদের ইচ্ছামত দেহ পরিবর্ত্তন করেন।" আমাদের বুঝাইবার জন্য তিনি একটি অলৌকিক ঘটনার বিবরণ দিয়াছিলেন। ___
একবার ঠাকুর একটি নদীর ধার দিয়া যাইতেছিলেন। নদীটি খুব প্রশস্ত নয়। ৪০/৫০ গজ চওড়া হইবে। নদীর এক পার হইতে অন্য পারের গাছপালা মানুষজন সবই পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়। ঠাকুর দেখিলেন নদীর পার দিয়া একজন বৃদ্ধ কমণ্ডলু হস্তে যাইতেছে। সাধু জলের দিকে এমন ভাবে তাকাইয়া যাইতেছেন যে, দেখিয়া মনে হইল তিনি নদীতে কিছু অনুসন্ধান করিতেছেন। কিছুদূর যাইতে না যাইতেই ঠাকুর দেখিলেন নদীর যেদিকে ঠাকুর যাইতেছেন ঠিক তাহার বিপরীত দিক হইতে একটি শব ভাসিয়া আসিতেছে। সাধু তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপাইয়া পড়িলেন এবং সাঁতার কাটিয়া ঐ শবটিকে তীরে উঠাইলেন। শবটি একটি ত্রিশ-বত্রিশ বৎসরের যুবকের। সাধু বেশ পরিষ্কার করিয়া ঐ শবটি মুছিলেন। নিজের ঝুলি হইতে তৈল বাহির করিয়া উহার সর্বাঙ্গে মাখাইলেন। পরে নদীতে নামিয়া নিজে অবগাহন করিলেন ও এক কমণ্ডলু জল লইয়া উপরে উঠিলেন। ঐ জলে স্নান করাইয়া শবদেহটির কপালে সিঁদুরের ফোঁটা দিলেন। শবটিকে চিৎ করিয়া শোয়াইয়া কিয়ৎক্ষণ পূজা করিলেন। এই পূজার পরে সাধু উহার উপরে উপুড় হইয়া শুইলেন। তিনি উহার হাতের সহিত হাত, পায়ের সহিত পা এবং শরীরের সহিত শরীর মিলাইয়া পড়িয়া রহিলেন। প্রায় আধ ঘন্টা পরে নিম্নের শবটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠিল এবং সাধুর শরীর একটি নিষ্প্রাণ শবে পরিনত হইল। নবজন্ম প্রাপ্ত নিচের মানুষটি তখন বুকের উপর হইতে সাধুর নিষ্প্রাণ দেহটি ফেলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন এবং সাধুর দেহ টিকে নদীতে ভাসাইয়া দিয়া নিজের গন্তব্যপথে চলিয়া গেলেন। এই সাধুরা বার্দ্ধক্যে দেহ অকর্ম্মণ্য হইলে দেহ পরিবর্ত্তন করিয়া দুই-তিন শত বৎসর বাঁচিয়া থাকেন।
জয় রাম 🌺🌿
"শ্রীগুরু শ্রীশ্রীরামঠাকুর "- শ্রীরোহিনী কুমার মজুমদার।

Sunday, 6 April 2025

 

যোগেশ্বর কর্মকার ঠাকুরের সাথে সাথে বহু জায়গায় যেতেন আর কীর্তনের সময় খোল বাজাতেন তাতে অন্যরা তাকে শ্রদ্ধা ভক্তি করত শুধু নয়, ঠাকুরও তাকে এটা সেটা দিতেন। কিন্তু ঠাকুরের প্রতি কোনো গভীর বিশ্বাস তার ছিল না। যেতেন কিছু পাওয়ার লোভে। একবার চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গি বাজারে ঠাকুর আছেন বিধুভূষণ বোসের বাড়িতে। রাতে অনেক শিষ্যরা বসে আছেন। যোগেশ্বর বাবু সেখানে গিয়ে হাজির। ঠাকুর যেখানে বসেছিলেন সেখানে গিয়ে ঠাকুরের দু-পা জড়িয়ে ধরে এনে নিজের কপালে ঠেকালেন।
ঠাকুর বললেন - আহা ভক্তি দেখাইয়া এত নমস্কার করতাছেন। এদিকে ত মনে মনে আমারে লইয়া অকুল সাগরে ভাইস্যা বেড়াইতেছেন।
অন্যান্য আশ্রিত ও ভক্তরাও একথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। ঠাকুর এসব কী বলছেন! ঠাকুরের মুখের দিকে আবার তিনি তাকালেন। ঠাকুর আবার বললেন- মূর্খরা টাকা বাজাইয়া লয়না। নাইলে ধরা পড়লে পুলিশে যাইব এই ডরে চালাকরা টাকা বাজাইয়া লয়। বলতে বলতেই ঠাকুর হেসে উঠলেন। তারপর বললেন- নেন নেন আর বাজান লাগত না। আর মনের সাথে যুদ্ধ করতে হইব না। ঠাকুরকে প্রনাম করে যোগেশ্বর কর্মকার ফিরে এলেন।
পরমেষ্ঠী গুরু শ্রীশ্রী রামঠাকুর
ডঃ প্রশান্ত কুমার ভট্টাচার্য
পৃষ্ঠা: ৪৪৪
যত্র জীবস্তত্র শিব:।পাশবদ্ধো ভবেদজীব:,
পাশমুক: সদা শিব:।''
প্রকৃতির বর্ণবিবর্ণে বিমোহিত হইয়া,ভাগ্যানুসারে সত্যপদ ছাড়িয়া,সীমাবদ্ধ ক্ষয়শীল দেহ-গেহ,বিদ্যা-বুদ্ধি,ধনী-মানী,শত্রুমিত্রাদির আবর্ত্তনে পড়িয়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা ভাগ্য-ভোগ করিয়া থাকে,এই ভোগ ত্যাগ না হওয়া পর্য্যন্ত মনের জল্পনা কল্পনা বিমুক্ত হইতে পারে না,দেহের বন্ধনও কাটে না জানিবেন।
''মন: করোতি পাপানি মনো লিপ্যতে পাতকৈ:।'' অতএব মন হইতেই দেহের ভোগ আয়তন করিয়া শান্তিঅশান্তি আদি দ্বন্দ্ব উপভোগ করিয়া থাকে।মনহইতেই দেহে সুস্থ অসুস্থ ইত্যাদি উপলব্ধি হয়।জীব যখন ঘুমায় তখন মন থাকে না,দেহ গেহাদি কিছুই থাকে না।সেইরুপ প্রাণের জানিবেন।
''প্রাণোহি ভগবানীশ: প্রাণো বিষ্ণু: পিতামহ:।
প্রাণেন ধার্য্যতে লোক: সর্ব্বং প্রাণময়ং জগৎ।।''
ঘুমাইলে মনাদি থাকে না।তখন প্রাণ থাকে,অতএব ভাগ্যশীল দেহের স্মিতিরুপ [?] ভাগ্যফল তিতিক্ষা করিয়া কর্ত্তৃত্ব মুক্তদ্বারা সত্যের অর্থ্যাৎ প্রাণের দাস হউন,সত্যনারায়ণ আপনার মঙ্গল করিবেন।ভাগ্য হইতেই লোকে দেহের শান্তি অশান্তি ভোগ পাইয়া থাকে।এই জন্য দেহই ভোগের আয়তনী জানিবেন ''দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্ব্বস্য ভারত।'' দেহ ভাগ্যবর্ত্তে যখনই দেহ ত্যাগ হইবে তখনই বিদেহীরুপ নিত্যানন্দ লাভ করিতে পারিবেন।
-শ্রী শ্রী রামঠাকুর
বেদবানী ২য় খন্ড(১৪৪)

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 শ্রী শ্রী রামঠাকুর---'' জগতে সমস্তই নশ্বর ,একমাত্র প্রাণবায়ুই সৎ ,প্রাণবায়ুর সঙ্গ করার নাম সৎসঙ্গ ৷''----- জয় রাম জয় গোবিন্দ 🙏🙏🙏
জয় রাম 🙏🙏🙏
যত ঘন ঘন নাম করিবেন তত‌ই
হৃদয়ে স্থির অবস্থা আসিবে।
ইহাকে শিবশক্তি যোগ বলে।
শ্রী শ্রী রামঠাকুর,,,।
রামময় হোক আমাদের সকলের প্রাণ।
<🌹🌹🌹শুভ রাত্রি 🌹🌹🌹>
 
 
 
যখনই  কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছিঃ
১৯৩৭ কিংবা ১৯৩৮ ইং সনে এক কাজের দায়িত্ব পেয়ে জামালপুর থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে এলেন রামঠাকুরের আশ্রিত শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদার। তাঁকে কাজে যেতে হত জি. পি. ও তে। ডিউটি ছিল বেলা দুটো থেকে রাত দশটা। অফিসে যাওয়া আসার সুবিধার জন্য রসা রোডের কাছে মহিম হালদার স্ট্রিটে বাড়ি ভাড়া করে স্বপরিবারে বসবাস শুরু করে দিলেন। তাঁর বড় ছেলের নাম শ্রী দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার - কলেজে পড়ে, উঁচু ক্লাসের ছাত্র। কলেজে আসা যাওয়া ছাড়া সে বড় একটা বাড়ির বাইরে থাকে না, বাড়ির সন্ধ্যা আরতি ও কীর্তনে প্রায়ই সে অংশগ্রহন করে।
একদিন মাধববাবু জি.পি.ও থেকে রাত এগারটায় বাড়ি ফিরে শোনেন, দুর্গাপ্রসাদ চাঁদপুরের এক বন্ধুর সাথে বিকেলের দিকে বেড়াতে বেরিয়েছে - এখন ও ফিরেনি, এমন কি আজকের সন্ধ্যা আরতির সময়ও তাকে দেখা যায় নি। বাড়ির সবাই খুবই চিন্তিত। সে কোথায়, কোথায় যেতে পারে, তাঁর খোঁজ করেও কাজের কাজ কিছুই হলো না।
বাধ্য হয়ে মজুমদার মশাই বিভিন্ন থানা, হাসপাতালে টেলিফোনে খোঁজ নেওয়া শুরু করে দিলেন। - খবর পাওয়া গেল মোটর গাড়ির চাপে আহত একটি ছেলেকে শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালে আনা হয়েছে - ছেলেটির নাম দুর্গাপ্রসাদ মজুমদার। এক ডাক্তারের গাড়িতে ছেলেটি চাপা পড়েছে আর সেই ডাক্তারবাবু ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মাধববাবু ছুটে এলেন ভবানীপুর সাউথ সবার্বন (মেইন) স্কুলের মাষ্টার শ্রীযুক্ত অক্ষয় কুমার মজুমদারের বাড়িতে, তাঁকে নিয়েই চলে আসেন হাসপাতালে। - দেখেন হাতে পায়ে মাথায় ব্যানডেজ বাঁধা, সংজ্ঞাহীন অবস্থায় অযত্নে পড়ে আছে শ্রীমান। হাসপাতালে সেই সময়ের কর্ত্তব্যরত ডাক্তার, মোটর দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পরিচয় পেয়ে কিছুটা ভালো ব্যাবস্থা করে দিলেন।
কি ভাবে, কেউ জানেন না, খবরটা ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের কানেও পৌঁছোয়। পরদিন তিনি ঐ হাসপাতালে এসে দুর্গাপ্রসাদের জন্য কেবিনের ব্যাবস্থা করে দিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হল যে ডাক্তারের গাড়ীতে সে চাপা পড়েছিল, সেই ডাক্তার হচ্ছেন, আবার ডাক্তার জে.এম দাশগুপ্তের ছাত্র। ঐ হাসপাতালেরই এক ডাক্তার। এই সব যোগাযোগের ফলে শ্রীমান দুর্গাপ্রসাদের জন্য দিন রাত্রির নার্স আর চিকিৎসার ভালো ব্যাবস্থা হলো। সকলের চেষ্টায়, মোটর দুর্ঘটনার চার দিন পর, তার জ্ঞান ফেরে কিন্তু সে কাউকে চিনতে পারে নি - ভুল বকে। ডাক্তারদের মতে মস্তিষ্কেই আঘাত সব চেয়ে বেশী। এদিকে রামঠাকুর তখন চট্টগ্রামে।
পুত্রের প্রাণভিক্ষা ও মঙ্গল কামনার কাতর আবেদন জানিয়ে মাধববাবু ঠাকুরকে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই চিঠির কোন উত্তর নেই। তখন তাঁর মনে হচ্ছিল ... "শ্রীমানের জীবন সংশয়, অথবা প্রাণ রক্ষা পাইলেও পাগল হইয়া থাকিবে।"...তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় দুর্গাপ্রসাদ একটু ভালো হলে মাধববাবু তাকে বাড়ি নিয়ে আসেন- অসুস্থ দুর্গাপ্রসাদকে রাখেন তিন তলার এক ঘরে।
-নির্জন দুপুরে দুর্গাপ্রসাদের মা দুর্গাপ্রসাদের ঘরের দরজায় বসে একমনে ঠাকুরের চিন্তা করছিলেন এমন সময় দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের অনুভব হলো কে যেন পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন। পিছন ফিরে তিনি ঠাকুরকে দেখেই হতভম্ব। নিজেকে সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- "ঠাকুর মশায়! কোথা হইতে আসিলেন? একা একা কি করিয়া আসিলেন, এ বাড়ি তো আপনি চিনেন না, আর তো কোন দিন আসেন নাই।" ঠাকুরকে দেখে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন রোদে পুড়ে লাল হয়ে গিয়েছেন। ঠাকুর বলেছিলেন, 'স্মরণ করিয়াছেন তাই আসিয়াছি, স্মরণ করিলে বাড়ি চিনিবার প্রয়োজন হয় না, ঠিকানাই বাড়ি চিনাইয়া দেয়।" দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরকে সমস্ত ঘটনাই বলেন। "জানি", একথাটা বলেই ঠাকুর নীরব। শ্রীমানের মাথায় গায়ে হাত বুলিয়ে আশীর্ব্বাদ করে ঠাকুর বললেন "রাস্তায় হাটার সময় নাম করিতে পার না, তাহা হইলে তো আঘাত লাগিত না।' রামঠাকুর এবার ব্যাস্ত হয়ে উঠলেন ফিরে যাওয়ার জন্য।
মাধববাবুর স্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর তাঁকে বললেন, গত রাতেই তিনি ১১ নং আর্ল স্ট্রিটে কুঞ্জবাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন। সেখানেই ফিরে যাবেন। "এখন আসি" এই বলেই ঠাকুর সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে লাগলেন, দুর্গাপ্রসাদের মা ঠাকুরের সাথে নীচে নেমে এলেন।
সে বাড়িতে একটাই মাত্র সদর দরজা। দরজায় বাড়ি ওয়ালার ২৫/২৬ বছরের ছেলেটি বসেছিল, বাড়িতে কেউ নেই - বাধ্য হয়ে ঐ ছেলেটিকেই ঠাকুরের জন্য টেক্সী ডেকে দেবার অনুরোধ করেন দুর্গাপ্রসাদের মা। এর মধ্যেই বাড়ির সদর দরজায় একটা টেক্সী এসে দাঁড়ায় -ঠাকুর তখনই উঠে বসলেন। টেক্সী ভাড়া বাবদ তিনি দুটো টাকা দিলেন ঠাকুরের হাতে। ঠাকুর টাকা দুটো ড্রাইভারের হাতে দিয়ে গাড়ী ছেড়ে দিতে বলেন। -গাড়ী চলে গেল। বাড়ি ওয়ালার ছেলেটি অনুসন্ধিৎসু হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, "এই বৃদ্ধ কে? আপনার কে কি হয়, কখন আসিয়াছেন, আবার এখনই চলিয়া গেলেন কেন?" ইত্যাদি নানান প্রশ্ন। দুর্গাপ্রসাদের মা'য়ের উত্তর "ইনি আমার বাবা, আমার ছেলের অসুখ, আধঘন্টা আগে তাহাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন, আবার এখন অন্যত্র চলিয়া গেলেন।" ছেলেটি অবাক হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করে "ওঁকে-ত এই কয় দিনের মধ্যে আর দেখি নাই। আজও এক ঘন্টার অধিক সময় এই খানেই বসিয়া আছি ভিতরে যাওয়ার সময়ে তো দেখি নাই।" আপনার হয়তো সময়ের ভুল হইয়াছে।"
ইতিমধ্যে আর এক কান্ড - সেই টেক্সী ড্রাইভার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, "মা! আমি আপনার বুড়া বাবাকে হারাইয়া ফেলিয়াছি। তিনি গাড়িতে উঠিয়াই আমার হাতে দুইটি টাকা দিলেন। হাজরা মোড়ে একটা বড় দোকানের সামনে গাড়ি থামাইয়া দোকানে ঢুকিলেন। অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত তিনি না আসায় দোকানে যাইয়া বুড়া বাবার চেহারার বর্ণনা দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম তিনি কোথায়? তাহারা কিছুই বলিতে পারিল না। কেবল বলিল এমন লোক কেহ দোকানে আসে নাই।"
পরের ঘটনা শ্রীযুক্ত মাধবচন্দ্র মজুমদারের ভাষাতেই লিখেছি...."কুঞ্জ বাবুর বাড়িতে পর দিন প্রাতে যাইয়া ঠাকুরের বিষয় অনুসন্ধান করিলাম। তাঁহারা স্বামী স্ত্রী উভয়ই জানালেন যে পর্যায়ক্রমে এই ঘরের দরজায় পাহারায় রত আছেন, কাহারও ঘরে যাইবার হুকুম নাই, তিনি গোপনে আছেন। তবে তিনি কাল ঐ সময় ঘরের বাহির হন নাই, ইহা নিশ্চিত। এই হেয়ালি আজও হেয়ালিই রহিয়া গিয়াছে।"...
মাধব বাবু আরও লিখেছেন..."এই ঘটনাটি লিপিবদ্ধ করিবার উদ্দ্যেশ্য আমার আর কিছুই নহে ঠাকুর অনেক সময় কথাচ্ছলে বলিয়াছেন যে "যখনই কোন প্রকার প্রসঙ্গ হয় কিংবা স্মরণ হয়, তখনি মনে করিবেন আমি সেই স্থানে উপস্থিত আছি, সেই সময়ে ভ্রমশূন্য হইয়া কাজ করিবেন।" এই বাক্যের সত্যতা প্রমানের নির্দ্দেশই হইল এই ঘটনা। অবশ্য এই বাক্য দৃঢ় ভাবে হৃদয়ে আঢ্য করিয়া রাখা আমাদের ন্যায় সাধারণ জীবের পক্ষে সহজ সাধ্য নহে। ....
"তাঁহার অশির্ব্বাদে আমার ছেলে সুস্থ হইয়া উঠিয়াছে এবং মস্তিষ্কেরও সুস্থতা ঘটিয়াছে।"... এই ঘটনার কিছুদিন পরেই মজুমদার মশাইকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়।
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।

 

 

 

 

শ্রীশ্রীঠাকুর কখনও কৈবল্যনাথ, কখনও সত্যনারায়ণ, কখনও সত্যপীর, কখনও শ্রীভগবান, কখনও শ্রীকৃষ্ণ, কখনও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, কখনও শ্রীহরিরুপে প্রকাশিত হইয়াছেন ভক্তগণের দিব্য চোখে।কালী, দুর্গা, শিব রুপেও তাঁহাকে কোন কোন ভক্ত দর্শন পাইয়াছেন। অবতারই বলি আর দেবতাই বলি, তাঁহারা জন্মগ্রহণ করেন এই বিশ্বলোকের ঘরে ঘরে পিতামাতার কোলে। তাহার পর ঘটে তাঁহাদের মাঝে ভাগবতী প্রকাশ। জীব রুপান্তরিত হয় শিবে। নাম ধারণ করেন ভাগবতী তনু। তিনিই যখন মিলনের আকাঙ্ক্ষায় ছুটিয়া আসেন। আমরা তখন তাঁহাকে দূরে সরাইয়া দিতে চাই। তাই তো তাঁহাকে প্রতিষ্ঠিত করি বেদির বৈকুণ্ঠে। আমরা তোমারি দাস। সংকোচ আর সংশয়ে আড়ষ্ট হই। কিন্তু তিনি তখনো ডাকেন, লইয়া যাইতে চান। যাঁহারা কখনও সখী হইলেন, তাঁহাদের বিচ্ছেদ নাই। তাঁহারা সদানন্দে থাকেন।সর্বলৌকিক ব্রহ্মজ্ঞ শ্রীশ্রীরামঠাকুর উদঘাটিত করিলেন সাধন জগতের অমোঘ সত্য। শ্রবণ করাইলেন ঈশ্বরপ্রাপ্তির সহজ সরল পথ ও পন্থা। তাই তো শ্রীশ্রীঠাকুর পতিতপাবন। দুঃখীর দরদী, নিঃস্বের বন্ধু, ভক্তের ভগবান।
আমার গুরু ভবসিন্ধু
আমার করুণাসিন্ধু
যে যেথায় গোবিন্দ ভজে
সে-ই তাঁরে পায়।
শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,
ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।

 
 
 
নাম যখন পাইয়াছেন তখন যে অবস্থাই হউক না,
এই দেহ ত‌্যাগের পর নিত‌্যধামে স্থিতি হইবেই নিশ্চয়।
-বেদবানী- ২/৮৯
-শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

প্রাণ গোবিন্দ প্রাণ গোপাল—কেশবঃ মাধবঃ দীনঃদয়াল
দীনঃদয়ালু প্রভু দীনঃদয়াল পরমদয়ালু প্রভু পরমদয়াল
গুরুর নামোঃ বৈ কেবলম্ — গুরুই কৃপাহি্ কেবলম্।।।।
জয় রাম । সকল বন্ধু ও গুরু ভাই বোনদের জানাই.
শুভ সুপ্রভাত 🌺🌿
.... জয় রাম জয় গোবিন্দ।
গুরু কৃপাহি কেবলম্। 🌺🌿🙏🙏🙏
🧡🌿জয় রাম জয় গোবিন্দ!
গুরু কৃপাহি কেবলম্! 🌺🌿🙏

 

 

দেবতারা যাঁর সেবা করবার জন্য সতত উন্মুখ, সেই দেবসেব্য শ্রীশ্রী ঠাকুর ভক্তদের কিভাবে সেবা করেছেন- তাঁর মাধুর্যমন্ডিত লীলা দেখতে পাই 'শ্রুতিতে রামঠাকুর' গ্রন্থের ১ম খন্ডের ৫ম সংখ্যক কাহিনীতে। কলকাতার ঢাকুরিয়া নিবাসী পরম ভক্ত শ্রদ্ধেয় মতিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় সকালে বাজারে যাচ্ছেন। এমন সময় শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুকে আদেশ করলেন- বাজার থেকে যেন চিতলের পেটি ও বুক লাল কই মাছ আনা হয়। ঠাকুরের এই নির্দেশে মতিবাবু বিস্ময়ে হতবাক। ক্ষুধা-তৃষ্ণা রহিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের হঠাত মাছের কী বা প্রয়োজন? কিন্তু গুরুবাক্য শিরোধার্য করে উক্ত দ্রব্যাদি মতিবাবু বাজার থেকে আনলেন। ঠাকুর উত্ফুল্ল চিত্তে মতিবাবুর সহধর্মিনীকে মাছ রান্নার পদ্ধতি বিশদভাবে বুঝিয়ে দিলেন। দীর্ঘদিন পর হঠাত ঐ দিনই বেলা ১২ টার সময় ডাঃ জে.এম দাশগুপ্ত এসে হাজির মতিবাবুর বাড়িতে। ঠাকুর তাঁকে এখানেই দ্বিপ্রাহরিক আহার করতে বললেন। বাড়িতে খবর পাঠানোর জন্য ডাক্তারবাবু তাঁর ড্রাইভারকে পাঠালেন এবং ঠাকুরের নির্দেশ মতো ফেরার পথে দুই প্যাকেট সিগারেট আনতে বললেন। এদিকে ডাক্তারবাবু স্নানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর মতিবাবুর সহধর্মিনীর কাছ থেকে তেল এনে ডাক্তারবাবুর মাথায় ঘষছেন। ঠাকুরের এই আচরণে ডাক্তারবাবু খুব অস্বস্তি বোধ করছেন। ভক্তবত্সল ঠাকুরের ভক্তসেবা এখানেই থেমে রইল না। ডাক্তারবাবুর স্নানের জন্য এক বালতি জল টিউবওয়েল পাম্প করে তুলে রেখেছেন। ডাক্তারবাবু তো মহাবিপদে পড়লেন। স্বয়ং ভগবানের আনা জলে ভক্ত স্নান করবেন-এটা কখনো সম্ভবপর? অবশেষে ডাক্তারবাবুর অনেক অনুরোধে ঠাকুরকে এ কাজ থেকে নিরস্ত করা গেল এবং ডাক্তারবাবুর স্নান সম্পন্ন হল।
কিছুক্ষণ পর ভক্তপ্রবর প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয় উপস্থিত হলে ঠাকুর তাঁকেও স্নান করিয়ে দুপুরে খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। ডাক্তারবাবু ঠাকুরকে নিবৃত্ত করে প্রভাতবাবুকে স্নান করিয়ে আনলেন। স্নান সমাপনান্তে দুই ভক্ত বসেছেন দ্বিপ্রাহরিক আহারে। ঠাকুর একটি মোড়ায় বসে তাদের আহারের তদারকি করছেন। ভক্তসেবার পরবর্তী নিদর্শন আরও চমকপ্রদ। ডাক্তারবাবুর ধূমপানের নেশা না থাকলেও, প্রভাতবাবুর ধূমপান করার অভ্যাস ছিল। তাই প্রভাতবাবু অনতিদূরে একটি গাছতলায় বসে বেশ আয়েশ করে সিগারেটে সুখটান দেবার জন্য পকেটে হাত দিয়ে দেখেন যে তাঁর পকেটে সিগারেট নেই। সেই সময় ডাক্তারবাবু দু'প্যাকেট সিগারেট এনে প্রভাতবাবুর হাতে দিয়ে বললেন- এই ধূমপানের ব্যবস্থা ঠাকুর স্বয়ং করেছেন। ভক্তসেবা এখানেই শেষ নয়। দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রামের জন্য ঠাকুর নিজ হাতে অনেক যত্ন করে শয্যার ব্যবস্থা করেছেন। মা যেমন তাঁর সন্তানের প্রতি অপত্য স্নেহ ভালবাসায় তার সেবা করেন শ্রীশ্রী ঠাকুরের সেই প্রকার মাতৃবত আচরণে ভক্তদের নয়ন অশ্রুপূর্ণ হয়ে উঠল।

 

 

 

শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏
শ্রীরামের প্রণাম মন্ত্র
রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে,
রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ!!
জয়রাম জয়রাম জয়রাম 🙏🌺🙏🌸🙏🌸🙏

 

আমার স্নেহময়ী জননী ময়মনসিংহে ঠাকুরের দর্শন লাভ হলে ঠাকুরকে অনুরোধ করলেন ----কলকাতায় গেলে তিনি যেন ছেলেকে দর্শন দিয়ে কৃপা করেন।  তখন অবশ্য আমাদের সমস্ত পরিবারই রাম ঠাকুরের ভক্ত। ভক্ত বৎসল ঠাকুর সত্য সত্যই কলকাতায় এসে আমার হোস্টেলের ঘরে উপস্থিত। আমি তাঁকে চেয়ারে বসতে দিয়ে, দোকান থেকে দু পয়সার দই নিয়ে এসে ভোগ দিলাম। তিনি আঙুলে করে সামান্য একটু গ্রহণ করে প্রসাদ করে দিলেন। আমি নিজে গ্রহন করে বন্ধুদের মধ্যেও ঠাকুরের প্রসাদ বিতরণ করলাম।
জয় রাম 🌺🌿
"কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর " ----মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়

 

জয় রাম ।
আজকের শুভ নবমী তিথিতে আমাদের আরাধ্য দেবতা শ্রীশ্রী রামঠাকুর , ত্রেতাযুগে অযোধ্যার রাজা দশরথ জীর রাজপ্রাসাদে " রামচন্দ্র " নামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনিই কলিযুগে কার্তিকপুরের ডিঙ্গামানিক গ্রামে মাঘ শুক্ল দশমী তিথিতে রাধামাধব চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের ঘরে " রামচন্দ্র " নামে জন্ম গ্রহণ করেছেন ।
সকল গুরু ভাইবোনকে জানাই
শুভ রামনবমীর শুভেচ্ছা ।
হরে কৃষ্ণ 🌼 হরে কৃষ্ণ 🌼
কৃষ্ণ কৃষ্ণ 🌼 হরে হরে
হরে রাম 🌼 হরে রাম 🌼
রাম রাম 🌼 হরে হরে 🌼
শ্রী প্রভাত চন্দ্র চক্রবর্ত্তী মশাই ,
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের শ্রীমুখের বাণী
" জন্ম তো একবারই হয়---
সেই বৃন্দাবন হইতে একই আছি "
এটি দৃঢ়রূপে বিশ্বাস করতেন ।
সেই বিশ্বাসের কষ্ঠীপাথরে যাচাই করা সত্যটিকে প্রকাশ করেছেন ,
এক অপূর্ব স্তবলহরীতে ।
যুগে যুগে শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরই
ত্রেতাযুগে শ্রী রামচন্দ্র রূপে , দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ রূপে ,
ও কলিযুগে শ্রী গৌরাঙ্গ দেব রূপে আবির্ভূত
হয়েছেন প্রয়োজন অনুযায়ী ।
ত্রেতাযুগে রাবণ বধের জন্য শ্রীরাম রূপে ,
দ্বাপরযুগে কংস বধের জন্য শ্রীকৃষ্ণ রূপে ,
আর কলিযুগে "নাম "এর মাধ্যমে কলিহত জীব উদ্ধারের
জন্য ভ্রাতৃরূপে ,
বন্ধুরূপে সেই ভগবানের আবির্ভাব হইল শ্রীশ্রী রামচন্দ্র রূপে ।
তারই এই আত্ম প্রকাশও বিভিন্ন ভক্তের কাছে হয়েছিল । ভক্তিমথিত কণ্ঠে প্রভাত চক্রবর্ত্তীর স্তোত্রটি সেই ভাবেই
উচ্চারিত হয়েছিল ।
" শ্রীশ্রীরামস্তোত্রম " ।
" জয়রাম "
শ্রীমতী প্রমীলা দত্ত ।
" মহাজীবনের কাহানী "
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩ হইতে ।
_____________________________________________
আমি বহুবার আমার বাবার নিকট শুনিয়াছি ,
শ্রী রামঠাকুর বলিয়াছেন ,
আমিই পুরীর জগন্নাথ , আমিই কাশীর বিশ্বনাথ ,
এবার নিয়া আমি চতুর্থবার আসিয়াছি এবং
এই " রাম " নামেই আসিয়াছি ।
শ্রীঠাকুর কখনো কাহাকেও শিষ্য বলিয়া পরিচয়
দেন নাই ।
প্রত্যেক আশ্রিত জনকে তিনি নামের ভিতর দিয়া তাহার অমোঘ শক্তি দিয়া গেছেন ।
এই " নাম " করিতে করিতে কলে সেই শক্তি প্রকাশ পাইবে ।
জয় রাম ।
গুরুদয়াল বসুরায় চৌধুরী ।
শ্রীগুরু রামকৃপাহি কেবলম ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭ হইতে ।—

  • Saturday, 5 April 2025

     

    লোকের কথায় কি যায় ? সত্যের আবরণই রজঃ তমঃ, একেই ম্লেচ্ছ অর্থাৎ ময়লা বলে। সত্য কখনও মলিন হয় না। যে যাহা বলুক, যে যাহা করুক সর্বদাই সহিষ্ণুতাকে আশ্রয় করিয়া সহ্য করিয়া কেবল গুরু স্মরণ করিবে।
    বেদবাণী ৩য় খন্ড (১৩৪)

     🌿🌺🌸🌼পাপমোচনী একাদশী🕉️🪷🛕
    যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে জনার্দন! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমাকে বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির! আপনি ধর্মবিষয়ক প্রশ্ন করেছেন। একাদশী সকল সুখের আধার, সিদ্ধি প্রদানকারী ও পরম মঙ্গলময়।
    সমস্ত পাপ থেকে নিস্তার বা মোচন করে বলে এই পবিত্র একাদশী তিথি ‘পাপমোচনী’ নামে প্রসিদ্ধ। রাজা মান্ধাতা একবার লোমশ মুনিকে এই একাদশীর কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত সেই বিচিত্র উপাখ্যানটি আপনার কাছে বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করুন।
    প্রাচীনকালে অতি মনোরম ‘চৈত্ররথ’ পুষ্প উদ্যানে মুনিগণ বহু বছর ধরে তপস্যা করতেন। একসময় মেধাবী নামে এক ঋষিকুমার সেখানে তপস্যা করছিলেন। মঞ্জুঘোষা নামে এক সুন্দরী অস্পরা তাঁকে বশীভূত করতে চাইল। কিন্তু ঋষির অভিশাপের ভয়ে সে আশ্রমের দুই মাইল দূরে অবস্থান করতে লাগল।
    বীণা বাজিয়ে মধুর স্বরে সে গান করত। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধাবীকে দেখে কামবাণে পীড়িতা হয়ে পড়ে। এদিকে ঋষি মেধাবীও অস্পরার অনুপম সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। তখন সেই অস্পরা মুনিকে নানা হাব-ভাব ও কটাক্ষ দ্বারা বশীভূত করে।
    ক্রমে কামপরবশ মুনি সাধন-ভজন বিসর্জন দিয়ে তার আরাধ্য দেবকে বিস্মৃত হন। এইভাবে অস্পরার সাথে কামক্রীড়ায় মুনির বহু বছর অতিক্রান্ত হল।
    মুনিকে আচার-ভ্রষ্ট দেখে সেই অস্পরা দেবলোকে ফিরে যেতে মনস্থ করল। একদিন মঞ্জুঘোষা মেধামী মুনিকে বলতে লাগল- হে প্রভু, এখন আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। কিন্তু মেধামী বললেন- হে সুন্দরী! তুমি তো এখন সন্ধ্যাকালে আমার কাছে এসেছে, প্রাতঃকাল পর্যন্ত আমার কাছে থেকে যাও। মুনির কথা শুনে অভিশাপ ভয়ে সেই অস্পরা আরও কয়েক বছর তার সাথে বাস করল।
    এইভাবে বহুবছর (৫৫ বছর ৯ মাস ৭ দিন) অতিবাহিত হল। দীর্ঘকাল অস্পরার সহবাসে থাকলেও মেধাবীর কাছে তা অর্ধরাত্রি বলে মনে হল। মঞ্জুঘোষা পুনরায় নিজস্থানে গমনের প্রার্থনা জানালে মুনি বললেন- এখন প্রাতঃকাল, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি সন্ধ্যাবন্দনা না সমাপ্ত করি, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি এখানে থাক।
    মুনির কথা শুনে ঈষৎ হেসে মঞ্জুঘোষা তাকে বলল- হে মুনিবর! আমার সহবাসে আপনার যে কত বৎসর অতিবাহিত হয়েছে, তা একবার বিচার করে দেখুন। এই কথা শুনে মুনি স্থির হয়ে চিন্তা করে দেখলেন যে, তাঁর ছাপ্পান্ন বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
    মুনি তখন মঞ্জুঘোষার প্রতি ক্রোধ পরবশ হয়ে বললেন- রে পাপীষ্ঠে, দুরাচারিণী, তপস্যার ক্ষয়কারিনী, তোমাকে ধিক্! তুমি পিশাচী হও। মেধাবীর শাপে অস্পরার শরীর বিরূপ প্রাপ্ত হল। তখন সে অবনতমস্তকে মুনির কাছে শাপমোচনের উপায় জিজ্ঞাসা করল।
    মেধাবী বললেন- হে সুন্দরী! চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী, সর্বপাপ ক্ষয়কারিণী। সেই ব্রত পালনে তোমার পিশাচত্ব দূর হবে।
    পিতার আশ্রমে ফিরে গিয়ে মেধাবী বললেন- হে পিতা! এক অস্পরার সঙ্গদোষে আমি মহাপাপ করেছি, এর প্রায়শ্চিত্ত কি? তা কৃপা করে আমায় বলুন।
    উত্তরে চ্যবন মুনি বললেন- চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া পাপমোচনী একাদশী ব্রতের প্রভাবে তোমার পাপ দূর হবে। পিতার উপদেশ শুনে মেধাবী সেই ব্রত ভক্তিভরে পালন করল।
     তার সমস্ত পাপ দূর হল। পুণরায় তিনি তপস্যার ফল লাভ করলেন। মঞ্জুঘোষাও ঐ ব্রত পালনের ফলে পিশাচত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দিব্য দেহে স্বর্গে গমন করল।
    হে মহারাজ! যারা এই পাপমোচনী একাদশী পালন করেন, তাদের পূর্বকৃত সমস্ত পাপই ক্ষয় হয়। এই ব্রতকথা পাঠ ও শ্রবণে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয়।

    "আমি-ই সেই রামঠাকুর" – অহংকারী পণ্ডিতের পতন ও বিশ্বরূপ দর্শন | অলৌকিক ঘটনা | ছন্নাবতার রামঠাকুর

     

    "আমি-ই সেই রামঠাকুর" – অহংকারী পণ্ডিতের পতন ও বিশ্বরূপ দর্শন | অলৌকিক ঘটনা | ছন্নাবতার রামঠাকুর


    🎞️ ভিডিও ইন্ট্রো (Intro Script):

    🎵 (ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃদু ভক্তিমূলক সঙ্গীত)
    🔊 নির্মল কণ্ঠে ভয়েসওভার:
    "পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের কারণ,
    সত্যনারায়ণ – আমি-ই সেই রামঠাকুর।
    আজকের এই ভিডিওতে শুনুন এক অলৌকিক সত্য ঘটনা—
    যেখানে এক অহংকারী পণ্ডিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের অলৌকিক রূপ দর্শনে কাঁপতে কাঁপতে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন।
    এমন অভিজ্ঞতা, যা বদলে দিয়েছিল তাঁর সমস্ত অহংকার।
    চলুন শুনি সেই ইতিহাসের পাতায় লেখা এক বিরল সাক্ষাৎ!"


    📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Story Script):

    📜 গ্রন্থ: “ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর” থেকে (পৃষ্ঠা ২০৬)
    📍 স্থান: ভৈরব রেল আবাসন, পূর্ববঙ্গ | সময়: ১৯৩০-এর দশকের শুরু

    🎙️ (ভয়েসওভার শুরু):
    তিরিশ দশকের প্রারম্ভে, শ্রীশ্রী রামঠাকুর সদানন্দকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছালেন পূর্ববঙ্গের ভৈরব রেল আবাসনে।
    সেখানে ললিত রায় মহাশয়ের গৃহে তিনি শুভবিজয় করিলেন।
    প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় ভক্তকুল ঠাকুরের অমৃতবাণী শুনে পরমানন্দ লাভ করিত।

    হঠাৎ একদিন, এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ পণ্ডিত – যিনি গর্বিত ছিলেন নিজের জ্ঞানে – উচ্চকণ্ঠে বলিলেন,
    "কৈ গো তোমাদের রাম ঠাকুর? তিনি নাকি ভগবান? তানরে একবার দেইখা যাই!"

    এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বাক্য শুনে সকলে হতচকিত।
    শ্রীশ্রী ঠাকুর তখন ভক্ত পরিবেষ্টিত অবস্থায় বসে ছিলেন।
    তিনি শান্তভাবে বাহিরে আসিয়া দাঁড়াইলেন সেই পণ্ডিতের সামনে।

    🔊 ঠাকুর বলিলেন:
    "পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কারণ, সত্যনারায়ণ, আমি-ই সেই রাম ঠাকুর।"

    এই বাক্য শোনামাত্র পণ্ডিত প্রবর থর থর করে কাঁপতে লাগলেন এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ভূপতিত হলেন।

    তাঁকে ঘরের ভিতরে এনে শুইয়ে দিলেন ভক্তরা। কিছুক্ষণ পরে যখন চেতনা ফিরল, তিনি হাঁটু গেড়ে ঠাকুরের সামনে বসে পড়লেন।
    অশ্রু নয়নে কম্পিত কণ্ঠে গীতার একাদশ অধ্যায় আবৃত্তি করতে লাগলেন – যেখানে বর্ণিত ভগবানের বিশ্বরূপ।

    🔊 সদানন্দ বলিলেন:
    "তিনি আবৃত্তির সময় মুহুর্মুহু কাঁপিয়া উঠিতেছিলেন, যেন বিশ্বরূপের প্রতিচ্ছবি তাঁহার চক্ষে ধরা পড়িতেছে।"

    🔊 শেষে ঠাকুর বলিলেন:
    "ওনারে একটু গরম দুধ খাইয়ে বাড়ি পৌঁছাইয়া দাও। বিশ্রাম করলেই ঠিক হইবে।"

    এভাবেই অলৌকিক এক ঘটনায় পণ্ডিতের অহংকার গলিয়া গিয়েছিল ঠাকুরের করুণ দৃষ্টিতে।


    🔚 এন্ডিং স্ক্রিপ্ট (Outro):

    📿 ভয়েসওভার (সুমিষ্ট সুরে):
    "ঠাকুর কখনো রাগ করেন না, তিনি শুধুই ভালোবাসেন।
    তাঁর অলৌকিকতা শুধুই দর্শনে নয়, হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
    এই ঘটনা আমাদের শিখায়—জ্ঞানে নয়, ভক্তিতে আসে মুক্তি।
    জয় শ্রীশ্রী রামঠাকুর।
    জয় রাম।
    জয় গোবিন্দ।"

    🎬 [ভিডিও শেষ হোক এই লেখায়]
    “ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর" – পৃষ্ঠা: ২০৬
    📘 সংকলক: শ্রী সদানন্দ চক্রবর্ত্তী


    আপনি চাইলে এর উপর ভিত্তি করে একটি ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, স্লাইড ডিজাইন বা ভয়েসওভার রেকর্ড স্ক্রিপ্ট-ও করে দিতে পারি।
    এই ভিডিও আপনি কোন চ্যানেলে আপলোড করবেন? আমি সেই অনুযায়ী স্ক্রিপ্টে চ্যানেল নাম বা লোগো যুক্ত করতেও সাহায্য করতে পারি। 🙏🎥


     
     
     
     
     
     
     
     
    " পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন ,
    সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কারণ ,
    সত্যনারায়ণ ,
    আমিই সেই রাম ঠাকুর " ।
    জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
    শুভ সকাল ।
    তিরিশ দশকের প্রারম্ভে ঢাকা হইতে সদানন্দকে সঙ্গে লইয়া ঠাকুর মহাশয় আসিলেন পূর্ববঙ্গের ভৈরব ষ্টেশনের রেল আবাসনে ।
    সেখানে শ্রীযুক্ত ললিত রায় মহাশয়ের আবাসে
    শ্রীশ্রী রামঠাকুর শুভবিজয় করিতেছেন ।
    প্রতিদিন বিশেষ করিয়া ছুটির দিন সকাল সন্ধ্যায় অপেক্ষাকৃত অধিক ভক্তকুল শ্রী শ্রী ঠাকুর সন্নিধানে আসিয়া তাঁহার
    অমৃতময় কথা শ্রবণ করিয়া আনন্দ লাভ করিতেছেন ।
    রেল আবাসন এবং তার আশেপাশে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের
    শুভ আগমনে সাড়া পড়িয়া গিয়েছে ।
    স্ত্রী- পুরুষ সকলে শ্রীশ্রী ঠাকুরকে দর্শন ও প্রণাম করিতে ব্যস্ত ।
    কেহ কেহ " নাম " চাহিয়া "নাম " পাইতেছেন ।
    ললিত রায়ের গৃহের চারিদিকে যেন আনন্দের হাট বসিয়াছে ।
    একদিন সকাল বেলায় জাতিতে ব্রাহ্মণ ,
    স্থানীয় একজন তথাকথিত পণ্ডিত শ্রেণীর ব্যক্তি ললিত রায় মহাশয়ের গৃহবাসের সম্মুখে আসিয়া পাণ্ডিত্যের গৌরবে
    গর্বিত হইয়া উচ্চ কণ্ঠে বলিতে লাগিলেন ,
    কৈ গো তোমাদের রাম ঠাকুর ?
    তিনি নাকি ভগবান ?
    তানরে একবার দেইখা যাই ।
    অহঙ্কারী পণ্ডিতের শ্লেষপূর্ন বাক্য শুনিয়া সেখানে উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত ।
    গৃহের মধ্যে ভক্ত পরিবৃত হইয়া ঠাকুর মহাশয় একখানা তক্তপোষের উপর তাঁহার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বসিয়া আছেন ।
    উদ্ধত পণ্ডিতের কথা শ্রবণ করিয়া শ্রীশ্রী ঠাকুর শান্তভাবে
    বাহিরে আসিয়া সেই পণ্ডিতের সম্মুখে দণ্ডায়মান পূর্বক তাহার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া উদাত্ত কণ্ঠে বলিতে লাগিলেন ,
    পূর্ণ ব্রহ্ম সনাতন ,
    সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় কারণ ,
    সত্যনারায়ণ , আমিই সেই রাম ঠাকুর ।
    পাণ্ডিত্যের অহঙ্কারের অহঙ্কারী পণ্ডিত প্রবর কথাগুলি
    শুনিতে শুনিতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের মধ্যে কী দেখিতে পাইলেন তাহা তিনিই জানেন ।
    উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ কিছুই অনুমান করিতে পারিলেন না ।
    তাহারা শুধু লক্ষ্য করিলেন সেই আত্মাভিমানী গর্বিত পণ্ডিত মুহূর্তের মধ্যে থর থর করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ভূপতিত হইলেন ।
    উপস্থিত কেহ কেহ তাহার শুশ্রূষায় ব্যস্ত হইয়া উঠিলেন ।
    সকলে ধরাধরি করিয়া যে ঘরে ঠাকুর মহাশয় আছেন ,
    সেখানে ঘরের মেঝেতে শোয়াইয়া দিলেন ।
    শ্রীশ্রী ঠাকুর পুনরায় তাঁহার পূর্ব নির্দিষ্ট আসনে বসিয়া নির্লিপ্তেরন্যায় সব কিছু অবলোকন করিতেছেন ।
    কিছুক্ষণ পরে পণ্ডিতের সংজ্ঞা ফিরিল ।
    জ্ঞান ফিরিবার পরে দাম্ভিক পণ্ডিত শ্রীশ্রী ঠাকুরের সম্মুখে
    হাটু গাড়িয়া বসিলেন ।
    তারপর হাতজোড় করিয়া কম্পিত কণ্ঠে ঠাকুরের শ্রীমুখপানে চাহিয়া সাশ্রুনয়নে গীতার একাদশ অধ্যায় আবৃত্তি করিতে লাগিলেন ।
    সদানন্দ দাদা বলিলেন যে ,
    গীতার একাদশ অধ্যায় বিশ্বরূপ দর্শন সম্পূর্ন আবৃত্তি করিতে মুহুর্মুহু কাঁপিয়া উঠিতেছিলেন ।
    তিনি তখনও পর্য্যন্ত সম্পূর্ন সুস্থ হইতে পারেন নাই ।
    যতক্ষণ তিনি গীতার শ্লোক গুলি পাঠ করিতেছিলেন ,
    ঠাকুর মহাশয় তাঁহার আসনে স্থির ভাবে বসিয়াছিলেন ।
    আবৃত্তি শেষে অহঙ্কারী ব্রাহ্মণ পণ্ডিতের অবস্থা দেখিয়া
    ঠাকুর মহাশয় বলিলেন ,
    ওনারে একটু গরম দুধ খাওয়াইয়া বাড়ী পৌঁছাইয়া দেন ।
    একটু বিশ্রাম করলেই ঠিক হইয়া যাইব ।
    জয় রাম জয় গোবিন্দ ।
    শ্রী সদানন্দ চক্রবর্ত্তী ।
    ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০৬ হইতে । 
     
     
     
     

      আজ হইতে আমার সমস্ত সন্দেহের অবসান হইল । শ্রীশ্রী ঠাকুরের চরণ ধরিয়া বার বার ক্ষমা ভিক্ষা করিলাম । : - - রোহিণী কুমার মজুমদার । জয় রাম ...